কমনওয়েলথ ফিউশন সিস্টেম (CFS) কোম্পানি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সিএস (CES) ইভেন্টে জানিয়েছে যে, তাদের স্পার্ক (Sparc) ফিউশন রিয়্যাক্টরের প্রথম চৌম্বক সফলভাবে ইনস্টল করা হয়েছে। এই কাজটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মেলায় প্রকাশিত হয়। রিয়্যাক্টরের লক্ষ্য আগামী বছর সম্পূর্ণভাবে চালু করা, যাতে উচ্চ তাপমাত্রার প্লাজমা থেকে উৎপন্ন শক্তি তার উৎপাদন খরচ অতিক্রম করে।
স্পার্ক রিয়্যাক্টর মোট ১৮টি চৌম্বক ব্যবহার করে একটি ডোনাটের মতো গঠন তৈরি করবে, যা শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের মাধ্যমে সুপারহিটেড প্লাজমা সংরক্ষণ ও সংকোচন করবে। এই চৌম্বকগুলো একত্রে কাজ করলে রিয়্যাক্টরের অভ্যন্তরে প্লাজমা ঘূর্ণায়মান হয়ে শক্তি উৎপাদন করবে, যা বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রাখে।
প্রতিটি চৌম্বকের ওজন প্রায় ২৪ টন, এবং সেগুলি ২০ টেসলা পর্যন্ত চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করতে সক্ষম, যা সাধারণ এমআরআই মেশিনের প্রায় তেরগুণ শক্তি। এই মাত্রার চৌম্বক ক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ওয়াটেজের তুলনায় বিশাল, তাই নির্মাতারা এটিকে “একটি বিমানবন্দরকে তুলতে সক্ষম” এমন উদাহরণ দিয়ে বর্ণনা করেছেন।
চৌম্বকগুলোকে -২৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (প্রায় -৪২৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় শীতল করা হয়, যাতে ৩০,০০০ অ্যাম্পিয়ার প্রবাহ নিরাপদে বহন করা যায়। শীতলকরণের ফলে চৌম্বকীয় উপাদানগুলো অতিরিক্ত তাপ থেকে রক্ষা পায় এবং দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স বজায় রাখে। রিয়্যাক্টরের কেন্দ্রে গঠিত ডোনাটের ভিতরে প্লাজমা ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে গরম হবে, যা ফিউশন প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা।
চৌম্বকগুলোকে সমর্থনকারী কাঠামোটি ২৪ ফুট প্রস্থের, ৭৫ টন ওজনের স্টেইনলেস স্টিলের একটি বৃত্তাকার ক্রায়োস্ট্যাট, যা গত মার্চ মাসে স্থাপন করা হয়েছিল। এই ক্রায়োস্ট্যাটের ভিতরে চৌম্বকগুলো উল্লম্বভাবে স্থাপন করা হবে, যাতে ডোনাটের আকার গঠন করে চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত হয়।
CFS-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বব মুমগার্ড জানান যে, শীতলকরণ ও ইনস্টলেশন কাজের পরবর্তী ধাপগুলো এই বছরের প্রথমার্ধে দ্রুত অগ্রসর হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাকি ১৭টি চৌম্বক গ্রীষ্মের শেষের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে স্থাপন করা হবে, যা রিয়্যাক্টরের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেবে।
ফিউশন শক্তি ক্ষেত্রের প্রতিযোগিতা তীব্র, এবং CFS সহ অন্যান্য সংস্থা ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে গ্রিডে প্রথম ফিউশন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রাখছে। যদি এই পরিকল্পনা সফল হয়, তবে ফিউশন শক্তি প্রচলিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতোই ব্যবহারযোগ্য, তবে পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে অধিক পরিষ্কার ও প্রায় অশেষ শক্তি সরবরাহ করবে।
প্রযুক্তিগত ঝুঁকি কমাতে CFS নভিডিয়া ও সিমেন্সের সঙ্গে সহযোগিতা করে রিয়্যাক্টরের একটি ডিজিটাল টুইন তৈরি করছে। সিমেন্স ডিজাইন ও উৎপাদন সফটওয়্যার সরবরাহ করছে, যা রিয়্যাক্টরের বাস্তব ডেটা সংগ্রহে সহায়তা করবে। নভিডিয়ার ওম্নিভার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই ডেটা বিশ্লেষণ করে রিয়্যাক্টরের কর্মক্ষমতা ও সম্ভাব্য ত্রুটি পূর্বাভাস করা হবে, যাতে প্রকৃত রিয়্যাক্টর চালু করার আগে অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করা যায়।
ফিউশন শক্তির সম্ভাবনা এখনো গবেষণার পর্যায়ে, তবে CFS-এর এই অগ্রগতি দেখায় যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি একসাথে কাজ করে ভবিষ্যতের শক্তি চাহিদা পূরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। আপনি কি মনে করেন, এই ধরনের উচ্চ প্রযুক্তি প্রকল্পগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কত দ্রুত প্রভাব ফেলবে?



