ঢাকা শহরে নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কামরুল হাসান নেসলে বাংলাদেশের কিটক্যাট চকলেটকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (BSTI) মানদণ্ডে ‘মানহীন’ বলে অভিযোগ করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর, ঢাকা নিরাপদ খাদ্য আদালত ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট লটের কিটক্যাট বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা ও পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামানকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা করা হয়; হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে দুজনই পরবর্তীতে জামিন পেয়ে আদালত থেকে মুক্তি পান।
নেসলে বাংলাদেশ আদালতের রায়ের ব্যাখ্যা দেন যে, কোনো লটের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার আদেশ দেওয়া হয়নি; বরং একটি ব্যাচের বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির কর্পোরেট কমিউনিকেশনস ম্যানেজার তানজিনা তারিক স্ট্রিম উল্লেখ করেন, কিটক্যাট BSTI-এর অনুমোদন প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তাই BSTI‑এর বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিং প্রযোজ্য নয়। তিনি আরও জানান, কিটক্যাটের প্রতিটি চালান বাজারে পৌঁছানোর আগে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR) দ্বারা গুণমান পরীক্ষা করা হয় এবং আমদানি দেশের ল্যাব রিপোর্টের সঙ্গে কাস্টমসে BCSIR‑এর রিপোর্ট জমা দিতে হয়। এই প্রক্রিয়ার ফলে পণ্যের মানহীনতা প্রমাণ করা কঠিন হয়।
অন্যদিকে, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান দাবি করেন, তিনি বিভিন্ন স্থানে থেকে সংগৃহীত কিটক্যাটের নমুনা বিশ্লেষণ করে ফলাফল পেয়েছেন যে পণ্যটি দুইবারই মানহীন প্রমাণিত হয়েছে। পরীক্ষাগারটি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (DSCC) খাদ্য পরীক্ষাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে BDS (1001:2010) অনুযায়ী ওয়েফার বিস্কুটের সর্বোচ্চ অম্লতা ১ শতাংশ নির্ধারিত। পরীক্ষায় কিটক্যাটের ওয়েফার বিস্কুটে অম্লতা ২.৩২ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে, যা অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে BDS CAC (87:20) মানদণ্ডের অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা পূরণে ত্রুটি পাওয়া গিয়েছে।
এই ঘটনার ফলে নেসলে বাংলাদেশের বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কিটক্যাটের বিক্রয় বন্ধের নির্দেশ এবং সম্ভাব্য রিকল প্রক্রিয়া সরবরাহকারীদের লজিস্টিক খরচ বাড়িয়ে তুলবে, পাশাপাশি রিটেইল চেইনগুলোর স্টক ম্যানেজমেন্টে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। নেসলে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষা করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে; না হলে গ্রাহকের আস্থা হ্রাস পেতে পারে এবং বিক্রয় হ্রাসের ঝুঁকি বাড়বে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপের ফলে নেসলের মতো বড় ব্র্যান্ডের জন্য নিয়ন্ত্রক সম্মতি প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। BSTI‑এর মানদণ্ডে অমিল পাওয়া পণ্যের পুনরায় পরীক্ষা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা পণ্যের লঞ্চ সময়সূচি ও ক্যাশ ফ্লোতে প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে, রিকল বা বিক্রয় বন্ধের ফলে রিটেইলারদের বিক্রয় ক্ষতি এবং গ্রাহকের রিফান্ড দাবি বাড়তে পারে, যা আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করবে।
নেসলে ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে যে, তারা BSTI‑এর মানদণ্ড অনুসারে পণ্য বিক্রি না করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং গুণমান নিশ্চিত করতে BCSIR‑এর কঠোর পরীক্ষা চালিয়ে যাবে। তবে, আদালতের রিকল নির্দেশনা মেনে চলা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাচের বিক্রি বন্ধ করা কোম্পানির জন্য জরুরি। ভবিষ্যতে, নেসলে এবং অন্যান্য বহুজাতিক খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে BSTI‑এর মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে অতিরিক্ত গুণমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হতে পারে।
সংক্ষেপে, নেসলে কিটক্যাটের মানহীনতা মামলা বাজারে সরবরাহের অস্থায়ী বাধা, আইনি চ্যালেঞ্জ এবং ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছে। নিয়ন্ত্রক সম্মতি ও গুণমান নিয়ন্ত্রণের কঠোরতা বাড়লে ভবিষ্যতে অনুরূপ বিরোধের ঝুঁকি কমবে এবং গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।



