লস এঞ্জেলেসের একটি ভিড়ভাট্টা হলের মধ্যে বিশেষ থ্রোয়িং হর্স রিভিউ স্ক্রিনিংয়ের পর, জোসেফ কোসিনস্কির পরিচালিত নতুন চলচ্চিত্রটি ফর্মুলা‑ওয়ান রেসের প্রকৃত দৃশ্য ও শব্দকে পর্দায় তুলে ধরেছে। চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রে ব্র্যাড পিট, যিনি অবসরপ্রাপ্ত রেসিং প্রতিভা হিসেবে দলকে বিপন্ন থেকে রক্ষা করতে ফিরে আসেন, তা দর্শকদের কাছে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দিয়েছে।
চিত্রনাট্য তৈরির সময় নির্মাতারা বিশ্বব্যাপী ফর্মুলা‑ওয়ান ট্র্যাকের সরাসরি সম্প্রচার ক্যামেরার রেকর্ডিং সংগ্রহের জন্য বিশাল পরিমাণে গবেষণা চালিয়ে গেছেন। প্রতিটি ট্র্যাকে ব্যবহৃত ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত ফুটেজকে একত্রিত করে, রেসের ভিজ্যুয়াল ও অডিও উপাদানকে যতটা সম্ভব সত্যিকারের রূপে উপস্থাপন করা হয়।
এই কাজের জন্য হাজার হাজার ঘন্টার টেলিভিশন সম্প্রচার রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি রেসের কোণ, গতি, পিট স্টপ এবং দর্শকের উল্লাসের মুহূর্তগুলোকে সংরক্ষণ করা হয়, যাতে চলচ্চিত্রের দৃশ্যপটের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি, মূল গল্পের দৃশ্যশুটের জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা হয়েছে। নাট্যগত অংশের শুটিংয়ে প্রচুর পরিমাণে নতুন শট তৈরি করা হয়েছে, যা বাস্তব রেসের রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত চিত্র তৈরি করেছে।
এই দুই ধরণের উপাদান—প্রচুর পরিমাণে বাস্তব রেসের ফুটেজ এবং নতুন শুট করা নাট্য দৃশ্য—কে একত্রে সংযুক্ত করা ছিল চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্মাতারা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন যে দর্শকরা রেসের তীব্রতা ও নাটকের আবেগ দুটোই একসাথে অনুভব করতে পারেন।
ব্র্যাড পিট এবং সহ-অভিনেতা ড্যামসন ইদ্রিস যে গাড়ি চালিয়েছেন, সেগুলো মূলত ফর্মুলা‑২ স্পেসিফিকেশনযুক্ত, যা ফর্মুলা‑১ গাড়ির চেহারাকে অনুকরণ করে। তবে এই গাড়িগুলোর ইঞ্জিনের শব্দ ফর্মুলা‑১ এর তুলনায় স্বতন্ত্র ছিল না, তাই সাউন্ড টিমকে প্রকৃত ফর্মুলা‑১ রেসের শব্দ দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হয়।
সাউন্ড মিক্সিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন রি‑রেকর্ডিং মিক্সার হুয়ান পারাল্তা। তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদন গাড়ির শব্দকে বাস্তব ফর্মুলা‑১ ইঞ্জিনের গর্জনে বদলানো এবং প্রতিটি রেসের জন্য ভিন্নধর্মী সাউন্ড তৈরি করা ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ। একই রকম শব্দের পুনরাবৃত্তি এড়াতে, প্রতিটি ট্র্যাকের পরিবেশ ও গতি অনুযায়ী সাউন্ড ডিজাইনকে আলাদা করা হয়েছে।
হাঙ্গেরি রেসের দৃশ্যকে তিনি “একটি মিউজিক ভিডিও”র মতো শোনাতে চেয়েছেন, যেখানে গতি ও রিদমের সমন্বয় স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। লাস ভেগাসের রেসের সাউন্ডকে “পানির নিচের মতো” বর্ণনা করা হয়েছে, যা চরিত্রের মানসিক বিশৃঙ্খলাকে প্রতিফলিত করে। আর আবুধাবির রেসে সাউন্ড ডিজাইনকে “সর্বোচ্চ” স্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাতে দর্শক রেসের চূড়ান্ত উত্তেজনা অনুভব করতে পারেন।
চিত্রের সম্পাদনা কাজের জন্য অস্কার বিজয়ী স্টিফেন মির্রিওনকে ক্রিটিক্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডে সেরা সম্পাদনার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তার নেতৃত্বে সম্পাদনা দলটি হাজার হাজার ঘন্টার রেকর্ডিংকে সংক্ষিপ্ত, তীব্র ও নাট্যগতভাবে সংহত করে উপস্থাপন করেছে, যা চলচ্চিত্রের গতি ও রিদমকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
ফর্মুলা‑ওয়ান প্রেমিক এবং সাধারণ দর্শক উভয়েরই এই চলচ্চিত্রটি নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে। বাস্তব রেসের দৃশ্য, সুনির্দিষ্ট সাউন্ড ডিজাইন এবং ব্র্যাড পিটের অভিনয় একত্রে একটি সমৃদ্ধ বিনোদনমূলক প্যাকেজ তৈরি করেছে, যা সিনেমা হলের পর্দায় রেসের উত্তেজনা পুনরায় জাগিয়ে তুলেছে। চলচ্চিত্রটি এখন থিয়েটার ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ, তাই রেসিং উত্সাহী ও সিনেমা প্রেমীদের জন্য এটি অবশ্যই দেখার মতো।



