চাপাইনবাবগঞ্জের জহরপুরটেক সীমান্তে প্রবেশের পর ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) হেফাজতে থাকা ৩৫ বছর বয়সী রোবিয়ুল ইসলাম গত রবিবার রাতের দিকে মারা গেছেন। রোবিয়ুলের দেহ চিহ্নিত করা হয়েছে তার পিতা আজাবুর রহমানের নামে, যিনি সত্রাশিয়া গ্রাম, নারায়ণপুর ইউনিয়ন, চাপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে। তার মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ গার্ড (বিজিবি) ৫৩তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেটারেল কলোনেল কাজি মোস্তাফিজুর রহমানের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
রোবিয়ুল রবিবার ভোরবেলায় সীমান্ত পারাপার করার সময় মাত্র শর্টস পরিহিত এবং দেহ ভেজা অবস্থায় বিএসএফের নজরে আসে। সীমান্তে আটক হওয়ার পর তাকে একটি বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় পোশাক ও খাবার সরবরাহ করা হয়। তবে ক্যাম্পে অবস্থানকালে রোবিয়ুলের শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়; তিনি হঠাৎ কাঁপুনি ও কনভালশন (দাঁড়িয়ে থাকা) লক্ষণ দেখান।
বিএসএফ রোবিয়ুলকে কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকগণ দ্রুত তার শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর ঘোষণা দেন। হসপিটালের রেকর্ড অনুযায়ী রোবিয়ুলের মৃত্যু ঘটার সময় তার শারীরিক অবস্থা গুরুতরভাবে অবনতি ঘটেছিল, তবে মৃত্যুর সঠিক কারণের জন্য অতিরিক্ত তদন্ত প্রয়োজন।
মৃত্যুর পরপরই রোবিয়ুলের দেহকে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের পোস্ট-মর্টেম বিভাগে পাঠানো হয়। পোস্ট-মর্টেম পরীক্ষা সকালবেলায় সম্পন্ন হয় এবং ফলাফল অনুযায়ী দেহটি একই দিনে মধ্যাহ্নে রোবিয়ুলের পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের সময় দেহটি জহরপুরটেক সীমান্তে রাত ৯:১৫ টার কাছাকাছি সময়ে বিএসএফ থেকে বিজিবি-তে হস্তান্তর করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
বিজিবি ৫৩তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেটারেল কলোনেল কাজি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিএসএফের মতে রোবিয়ুলের মৃত্যু প্রাথমিকভাবে রোগের কারণে হতে পারে, তবে পোস্ট-মর্টেম রিপোর্টে উল্লেখিত আঘাতের চিহ্নগুলো ব্যাটন দিয়ে আঘাতের ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেহে পাওয়া কিছু চিহ্ন সম্ভবত শারীরিক প্রয়োগের ফলাফল হতে পারে, যা তদন্তের আওতায় থাকবে।
মোস্তাফিজুর রহমান পোস্ট-মর্টেমের লিখিত রিপোর্ট পাওয়ার পর বিএসএফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক লিখিত আপত্তি জানাবেন বলে জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেহের হস্তান্তর, চিকিৎসা সেবা এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্টতা না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় থাকবে।
বিএসএফের পক্ষ থেকে রোবিয়ুলের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। তবে ক্যাম্পে রোবিয়ুলের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন, কনভালশন এবং দেহে পাওয়া আঘাতের চিহ্নগুলোকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উত্থাপিত হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ গার্ড এবং ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। উভয় পক্ষই দেহের হস্তান্তর প্রক্রিয়া, চিকিৎসা সেবা এবং পোস্ট-মর্টেম ফলাফল সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
রোবিয়ুলের পরিবার এখন দেহের হস্তান্তর ও পোস্ট-মর্টেম রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে সীমান্ত পারাপারের সময় নিরাপত্তা প্রোটোকল ও মানবিক সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



