22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগুমের তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা, দায়িত্বশীলদের দায় এড়ানো যাবে না

গুমের তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা, দায়িত্বশীলদের দায় এড়ানো যাবে না

গুমের ঘটনাগুলোর ওপর দুই বছরের বেশি সময়ের তদন্তের ফলাফল গত রোববার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা হয়েছে। কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন, গুমের দায়িত্ব শীর্ষ কর্মকর্তাদের থেকে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

গুমের ঘটনা নিয়ে ১.৫ দশকের আওয়ামী লীগ শাসনকালে ঘটিত বহু নিখোঁজের অভিযোগের পর, অস্থায়ী সরকার আগস্ট ২০২৪-এ গুম তদন্ত কমিশন গঠন করে। এই কমিশন ১,৫৬৯টি গুমের ঘটনা নিশ্চিত করে, যার বেশিরভাগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সংঘটিত হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুমের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্তি নির্দেশ করা হয়েছে।

অনেক সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেন, গুমের ঘটনা তাদের দায়িত্বে না থাকাকালেই ঘটেছে; তারা কেবল পূর্বসূরিদের অধীনে কাজ করছিল। তবে কমিশন এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, কমান্ড পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বও পরিবর্তিত হয় না, বরং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপরই তা আরোপিত হয়। কোনো বন্দীকে রক্ষক ছাড়া রাখা সম্ভব নয়; রক্ষক হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাই দায়িত্বশীল।

সেনাবাহিনীর নিজস্ব তদন্তেও সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বরখাস্ত) আবদুল্লাহিল আমিন আজমির আট বছরের বন্দিদশার জন্য পরবর্তী মহাপরিচালকদের সমানভাবে দায়ী করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত গুমের ক্ষেত্রে শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রায়ই যে যুক্তি দেন—নিম্নস্তরের কর্মী বা গোপন বন্দিশালার বিষয়ে তারা অজ্ঞ ছিলেন—তাকে প্রত্যাখ্যান করে, কারণ শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানার দায়িত্ব ছিল।

কমিশন উল্লেখ করেছে, মিন্টো রোডের ডিবি ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) কার্যালয়, র‌্যাব সদর দপ্তর এবং ডিজিএফআইয়ের জেএইসি (আয়না ঘর) এমন স্থানে অবস্থিত ছিল যেখানে শীর্ষ কর্মকর্তাদের কক্ষ থেকে বন্দীদের চিৎকার শোনা বা তাদের চলাচল নজরে আসা অসম্ভব ছিল না। তাই দায়িত্ব এড়ানোর কোনো যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

গুমের তদন্তের ফলাফল রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব স্বীকার না করা এবং পূর্বসূরিদের ওপর দোষারোপের প্রচেষ্টা এখন আর বৈধ নয়। প্রতিবেদনটি সরকারকে গুমের শিকারের পরিবারকে ন্যায়বিচার প্রদান এবং গোপন বন্দিশালা বন্ধ করার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে।

অধিকন্তু, গুমের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে প্রতিবেদনটি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল করা এবং গুমের শিকারের ক্ষতিপূরণ দাবী করেছে।

গুমের তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারকে গুমের শিকারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, গোপন বন্দিশালা বন্ধ, এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। এছাড়া, গুমের পুনরাবৃত্তি রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কমিশনের প্রেসিডেন্টের মতে, গুমের দায়িত্ব শীর্ষ কর্মকর্তাদের থেকে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়; দায়িত্বের ধারাবাহিকতা এবং দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি না করলে দেশের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় অগ্রগতি সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে গুমের পুনরাবৃত্তি রোধে তৎপরতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments