বাংলাদেশের বামহাতের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ১১‑এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে স্বাগত জানানো হয়েছে। লিগের পোস্টে তার ছবি এবং “নিউ ইরা” শব্দগুলো দিয়ে নতুন যুগের সূচনা ঘোষণা করা হয়েছে।
মুস্তাফিজুরের পিএসএল‑এ অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত নয়; ড্রাফ্টের তারিখ জানুয়ারি ২১ নির্ধারিত, এবং তখন পর্যন্ত তিনি কোনো দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হননি। পিএসএল এই বছর দুইটি নতুন দলে সম্প্রসারিত হবে, ফলে মোট আটটি দল প্রতিযোগিতা করবে।
পিএসএল ১১-এর সূচনা ২৩ মার্চ নির্ধারিত, যা একই দিনে ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ১৯‑এর উদ্বোধনও হবে। দুই টুর্নামেন্টের সমান্তরাল সূচনা উভয় দেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য বিশেষ দৃষ্টিনন্দন হবে।
মুস্তাফিজুরের আইপিএল থেকে মুক্তি পাওয়া যায় কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে, যারা তাকে ৯.২ কোটি রুপি (বাংলাদেশের রেকর্ড) মূল্যে কিনেছিল। এই সিদ্ধান্তটি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসি) এর নির্দেশে নেওয়া হয়।
কেকেআর‑এর এই পদক্ষেপের পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা যায়। বাংলাদেশ সরকার আইপিএল সম্প্রচারের অনুমতি স্থগিত করে, এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথ আয়োজিত টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিসিবি এই সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত উদ্বেগ উল্লেখ করে। দলটি আইসিসি‑এর কাছ থেকে ভারতীয় মাটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোকে অন্য দেশে স্থানান্তর করার অনুরোধ করেছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের দলকে বর্তমানে ভারতীয় মাটিতে গ্রুপ স্টেজের সব ম্যাচ খেলতে হবে, যার মধ্যে প্রথম তিনটি ম্যাচ কেকেআর‑এর ঘরোয়া স্টেডিয়াম এডেন গার্ডেনস-এ নির্ধারিত। এই পরিকল্পনা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
বিসিবি ও সরকার উভয়ই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয় তবে দলটি অংশগ্রহণ থেকে সরে যাবে। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি ও টুর্নামেন্টের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে।
পিএসএল কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় মুস্তাফিজুরের জন্য “নিউ ইরা” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নতুন যুগের সূচনা নির্দেশ করে। যদিও তিনি এখনো কোনো পিএসএল দলে অন্তর্ভুক্ত হননি, তবে লিগের এই স্বাগতসূচক পোস্ট তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।
মুস্তাফিজুরের আইপিএল থেকে বাদ পড়া এবং পিএসএল‑এ স্বাগত পাওয়া উভয়ই দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটের গতিপথে নতুন মোড় তৈরি করেছে। তার পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতা উভয় লিগের জন্যই মূল্যবান সম্পদ হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেট ভক্তদের মনোযোগ দু’টি প্রধান টুর্নামেন্টের দিকে থাকবে; একদিকে আইপিএল, অন্যদিকে পিএসএল। উভয় লিগের সূচনা একই দিনে হওয়ায় মিডিয়া ও দর্শকের জন্য সময়সূচি সমন্বয় করা প্রয়োজন হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মুস্তাফিজুর রহমানের পিএসএল‑এ স্বাগত, আইপিএল থেকে তার অব্যাহতি, এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো বর্তমান ক্রিকেট পরিবেশের জটিলতা তুলে ধরছে। ভবিষ্যতে তার অংশগ্রহণ ও দলীয় সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে গড়ে উঠবে, তা সময়ই বলবে।



