বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের বগুড়া সফরের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। শহরের সূত্রাপুরে তার বাসা সম্পূর্ণ সংস্কার করা হয়েছে, আসবাবপত্র সাজানো হয়েছে এবং পার্টি অফিসের জেলা শাখা ধোয়ামোছা কাজ শেষের পথে। তিনি ১১ জানুয়ারি ঢাক থেকে রওনা দিয়ে বগুড়ায় পৌঁছাবেন।
বগুড়া জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, বাসার রঙের মরিচা ও পুরনো পেইন্ট সরিয়ে নতুন রঙে রাঙানো হয়েছে। ঘরে শোবার ঘর, ড্রয়িং রুম এবং অন্যান্য কক্ষ আধুনিক নকশায় পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে অতিথি এক নজরে প্রশংসা করতে পারে।
সকালবেলা বাসা ঘুরে দেখা যায়, পুরনো কাঠের ফ্লোরে নতুন পলিশের ঝলক দেখা যায়। রঙের তাজা স্তর এবং নতুন ফার্নিচার কক্ষগুলোকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। বাসার অভ্যন্তরে আধুনিক আলো এবং সজ্জা যুক্ত করা হয়েছে, যা তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৯ বছরের পর বগুড়ার সফরের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে।
বগুড়া জেলা পার্টি অফিসের কক্ষও সংস্কারাধীন। রেজাউল করিম বাদশা এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেনসহ দলীয় নেতারা কাজের তদারকি করছেন। পূর্বে নির্ধারিত কক্ষটি বহু বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল; এখন তা আধুনিকায়ন করে ব্যবহারযোগ্য করা হচ্ছে।
রেজাউল করিম বাদশা উল্লেখ করেন, “১১ জানুয়ারি তারেক রহমান ঢাকা থেকে রওনা হবেন। জেলা পার্টি অফিসে তার জন্য নির্ধারিত কক্ষটি সংস্কার করা হচ্ছে। পার্টি অফিসে আসলে সেখানেই বসবেন তিনি।” তিনি আরও যোগ করেন, কক্ষের পুনর্নির্মাণে স্থানীয় দলীয় কর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।
সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু জানান, তারেক রহমানের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে সূত্রাপুরের বাসা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি অতীতেও ঐ বাসায় রাত্রি কাটিয়েছেন, তাই এই বাসা পুনরায় ব্যবহার করা হবে।
বিএনপি মিডিয়া সেল রায়ের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী কালাম আজাদ জানান, তারেক রহমান বগুড়ায় রাত্রি শেষ করার পর আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে খালেদা জিয়ার দোয়া মহফিলে অংশ নেবেন। এরপর রংপুরের পথে তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ তিন পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
কালাম আজাদ আরও উল্লেখ করেন, রংপুরে তিনি শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের কবরজিয়ারত করবেন। এই সফরটি তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপস্থিতি ও সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ দৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পিত।
বগুড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা তারেক রহমানের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের পর তার উপস্থিতি শহরের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। বাসা ও অফিসের সংস্কার সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় দলীয় কর্মীরা আত্মবিশ্বাসী যে সফরটি সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে।
বিএনপি জেলা শাখার কর্মীরা সংস্কারকাজের সময় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ নজর দিয়েছেন। কাজের সময় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়া গেছে, যা দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় সহায়তা করেছে।
এই সফরের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, তারেক রহমানের রংপুরে পরিকল্পিত সফর এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ রাজনৈতিক সমাবেশের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। এই সাক্ষাৎকারগুলোতে তিনি পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন বলে ধারণা।
বগুড়া জেলা বিএনপি শাখা এই প্রস্তুতিকে পার্টির সংগঠনের শক্তি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। সংস্কারকাজের সমাপ্তি এবং আসন্ন সফর দুটোই স্থানীয় সমর্থকদের মনোভাবকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্য রাখে।



