রিটার্নিং কর্মকর্তার রায়ের বিরোধিতা করে গত দুই ধারাবাহিক দিনে নির্বাচন কমিশনে মোট ১৬৪টি আপিল জমা হয়েছে। এর মধ্যে একদিনে ৪২টি এবং পরের দিনেই ১২২টি আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রথম দিনে ৪২ প্রার্থী আপিল করেছেন, যার মধ্যে ৪১টি প্রার্থিতা পুনরুদ্ধারের জন্য এবং একটি আবেদন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের বৈধ প্রার্থীর মনোনয়নের বিরোধে দাখিল করা হয়। এই আবেদনগুলো নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় বুথ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রার্থীদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দ্বিতীয় দিনে জমা পড়া ১২২টি আবেদন সবই প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে করা হয়েছে। এই দিনে কোনো বৈধ ঘোষিত সিদ্ধান্তের বিরোধে কোনো আবেদন করা হয়নি, যা নির্দেশ করে যে অধিকাংশ আপিল রায়ের পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের দিকে কেন্দ্রীভূত।
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর, এরপর ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের দাখিলকৃত নথি যাচাই-বাছাই করে রায় প্রদান করেন। এই রায়ের বিরোধিতা করতে প্রার্থীরা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ইসিতে আপিল দাখিলের সুযোগ পেয়েছেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা।
ইসির আপিল নিষ্পত্তির সময়সূচি ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সব আপিলের পর্যালোচনা শেষ করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে, যাতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়সীমা ২০ জানুয়ারি ঠিকমতো পালন করা যায়। আপিল নিষ্পত্তি দ্রুত না হলে নির্বাচনী সময়সূচিতে বিলম্বের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরপরই ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের কাজ সম্পন্ন হবে। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে এবং এই সময়কাল ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত চলবে। প্রচারণার সময় প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের নীতি ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন।
ভোটগ্রহণের নির্ধারিত তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি, যা দেশের সর্বত্র একসাথে অনুষ্ঠিত হবে। এই তারিখের আগে সকল প্রক্রিয়া, যেমন আপিল নিষ্পত্তি, প্রতীক বরাদ্দ এবং প্রচারণা, নির্ধারিত সময়সীমা মেনে সম্পন্ন হওয়া জরুরি, যাতে নির্বাচনের সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত পরিচালনা নিশ্চিত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিমাণে আপিলের জমা হওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের উচ্চ মনোযোগ এবং প্রার্থীদের অধিকার রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করে। ইসির দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা রয়েছে, যাতে নির্বাচনী সময়সূচি কোনো বাধা ছাড়াই চালু রাখা যায়।
সামগ্রিকভাবে, রিটার্নিং কর্মকর্তার রায়ের বিরোধিতা করে এই বৃহৎ সংখ্যক আপিল নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার সুযোগ উভয়ই বটে। সময়মতো নিষ্পত্তি এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর দৃঢ়তা বাড়াবে।



