প্রেস সচিব শফিকুল আলম মঙ্গলবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান কাজ। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বিষয়ক পরিকল্পনা ইতিমধ্যে বিভিন্ন দল ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে চালু রয়েছে।
সরকারের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোকে দলীয় নেতাদের প্রয়োজন অনুযায়ী গার্ড ও গনম্যান সরবরাহ করা হয়েছে। শফিকুল আলম বলেন, যেসব নেতার সুরক্ষার প্রয়োজন, তাদের তালিকা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দল দুজনেরই হাতে রয়েছে, যদিও কিছু দল এই তথ্য প্রকাশে দ্বিধা করে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একক সংস্থার কাজ নয়; এটি রাজনৈতিক দল, নিরাপত্তা সংস্থা এবং পুলিশ বিশেষ শাখার সমন্বিত প্রচেষ্টা। বিশেষ করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এই দায়িত্বে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
স্থানীয় পর্যায়ে যদি কোনো দল বা নেতা অতিরিক্ত সুরক্ষা চান, তবে তা পুলিশ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শফিকুল আলমের মতে, নিরাপত্তা চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে, যাতে কোনো গ্যাপ না থাকে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যাপ্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করে, নির্বাচনের উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী সুরক্ষা নিশ্চিত করা দরকার, যাতে কোনো হিংসাত্মক ঘটনা না ঘটে। সরকার এই উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীল এবং সমাধানের পথে কাজ করছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা শুধুমাত্র বড় শহর নয়, গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকায়ও সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা দলগুলোকে প্রতিটি নির্বাচনী ঘাঁটিতে উপস্থিত করা হবে, যাতে ভোটার ও প্রার্থী উভয়েরই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
এছাড়া, নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকার পরিকল্পনা করেছে, যাতে প্রতিটি দলের কাছে তাদের সদস্যদের সুরক্ষা সংক্রান্ত পূর্ণ তালিকা সরবরাহ করা যায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় গুজব ও অশান্তি কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করতে পারে, তাই সরকার এই ঝুঁকি কমাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। শফিকুল আলমের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কোনো আপস করা যাবে না।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশা করেন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো একসাথে কাজ করে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করবে।
অবশেষে, শফিকুল আলম নিশ্চিত করেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতিমধ্যে চালু রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুসারে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো অনুরোধ দ্রুত ও যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।
এই ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন, তবে তারা একই সঙ্গে অতিরিক্ত সুরক্ষা চাওয়ার অধিকার রক্ষার কথা পুনরায় জোর দিয়েছেন। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনো পরিবর্তন দ্রুত জানানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় নিরাপত্তা বিষয়ক এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার, নিরাপত্তা সংস্থা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।



