বাংলাদেশের বামহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ২৬ মার্চ শুরু হওয়া পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)‑এ অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ৩ মে শেষ হওয়া এই টি‑টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তার দল এখনও চূড়ান্ত না হলেও, প্লেয়ার ড্রাফটের মাধ্যমে তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মুস্তাফিজের পিএসএল‑এর সঙ্গে প্রথম সংযোগ ২০১৮ সালে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ছিল; পাঁচটি ম্যাচে চারটি উইকেট নিয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন। সাত বছর পর এবার তিনি আবার এই লিগে নাম লেখাতে যাচ্ছেন, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একটি নতুন মোড় নির্দেশ করে।
পিএসএল, যা আইপিএলের মতোই টি‑টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়, এই মৌসুমে আটটি দল নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতা করবে। মোট এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা টুর্নামেন্টটি মোট ১১তম এবং এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংস্করণ হিসেবে গন্য হবে। প্রতিটি দল দু’বার করে একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, এবং শীর্ষ চারটি দল প্লে‑অফে পৌঁছাবে। এই কাঠামো এবং নতুন দলসংখ্যা পিএসএল‑কে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে, বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক স্তরের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বাড়বে।
মুস্তাফিজের পিএসএল‑এর সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হওয়া তার সাম্প্রতিক আইপিএল‑এর ঘটনার পরিণতি। গত শনিবার, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেএনআর) তার স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়। এই সিদ্ধান্তটি মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশের আট ঘণ্টা আগে বিসিসিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। ফলে, মুস্তাফিজের আইপিএল‑এর এই মৌসুমে কোনো ম্যাচে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।
আইপিএল নিলামে মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি (৯২.২ মিলিয়ন) মূল্যে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হাতে বিক্রি করা হয়। চেন্নাই সুপার কিংস এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে তীব্র দরদাম শেষে এই চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হয়। এই মূল্যায়ন তাকে আইপিএল‑এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে, স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার ফলে তিনি এই মৌসুমে কোনো আইপিএল ম্যাচে খেলতে পারবেন না, যা পিএসএল‑কে অনন্য সুবিধা এনে দেবে।
পিএসএল‑এর প্লেয়ার ড্রাফটের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে ড্রাফটের মাধ্যমে মুস্তাফিজের দল নির্ধারিত হবে বলে আশা করা যায়। ড্রাফটের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তার নতুন দলের নাম প্রকাশিত হবে, এবং তা তার পারফরম্যান্সের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। মুস্তাফিজের ফিরে আসা পিএসএল‑এর আক্রমণাত্মক বিকল্পকে সমৃদ্ধ করবে, বিশেষ করে তার বামহাতি পেসার হিসেবে গতি এবং ভিন্ন ভিন্ন শটের ক্ষমতা টিমের বোলিং আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
পিএসএল‑এর এই মৌসুমে মোট আটটি দল অংশ নেবে, যা পূর্বের ছয়টি দলের তুলনায় একটি বড় বৃদ্ধি। নতুন দলগুলো এবং বিদ্যমান দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে, এবং মুস্তাফিজের মতো অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ের উপস্থিতি টুর্নামেন্টের গুণগত মানকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে। লিগের সূচি অনুযায়ী, প্রথম ম্যাচ ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে, এবং পরবর্তী সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ চলবে, যা ভক্তদের জন্য ধারাবাহিক উত্তেজনা নিশ্চিত করবে।
মুস্তাফিজের পিএসএল‑এ অংশগ্রহণের খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। তার পূর্বের পিএসএল পারফরম্যান্স এবং আইপিএল‑এ অর্জিত উচ্চমূল্য বিক্রয় উভয়ই তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উপস্থাপন করে। যদিও তার আইপিএল‑এর এই মৌসুমে অংশগ্রহণ সম্ভব না, তবু পিএসএল‑এর নতুন রূপে তার উপস্থিতি লিগের আকর্ষণ বাড়াবে এবং টিমগুলোকে তার বোলিং দক্ষতা ব্যবহার করার সুযোগ দেবে।
লিগের শেষ ম্যাচ ৩ মে নির্ধারিত, এবং শীর্ষ চারটি দল প্লে‑অফে প্রবেশের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। পিএসএল‑এর সম্প্রসারণ, নতুন দলসংখ্যা এবং আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ একসাথে লিগকে দক্ষিণ এশিয়ার টি‑টোয়েন্টি ক্যালেন্ডারের অন্যতম প্রধান ইভেন্টে রূপান্তরিত করবে। মুস্তাফিজুর রহমানের পিএসএল‑এ ফিরে আসা এই উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হবে, এবং তার পারফরম্যান্স লিগের সামগ্রিক গুণগত মানকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।



