প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেন্স্কি ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষেবা (SBU) এর শীর্ষ পদে হঠাৎ পরিবর্তন করে মেজর-জেনারেল ইভহেনি খমারাকে কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রধান ভাসিল মালিউককে পদত্যাগের আদেশ দেন। এই পদবিন্যাস পরিবর্তনটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত কাজের দিকনির্দেশনা পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
SBU মূলত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে গোপনীয় অপারেশন পরিচালনায় দায়িত্বশীল। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এ সংস্থা রাশিয়ার ভূখণ্ডে গোপনীয় ধ্বংসাত্মক কাজ, লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস এবং হত্যাকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
ভাসিল মালিউক ২০২২ সাল থেকে SBU-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার নেতৃত্বে সংস্থা রাশিয়ার বিরুদ্ধে সফল অপারেশন চালিয়ে এসেছে এবং সন্দেহজনক রাশিয়ান দ্বৈত এজেন্টদের পরিষ্কার করার কাজেও পরিচিতি অর্জন করেছে। এই সময়ে তিনি সংস্থার কাঠামোকে শক্তিশালী করে তোলার পাশাপাশি গোপনীয় আক্রমণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
যুদ্ধের শুরুর পর থেকে জেলেন্স্কি বহুবার SBU-র শীর্ষে পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো দেশের নিরাপত্তা নীতি ও কৌশলগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। মালিউকের পদত্যাগের সিদ্ধান্তও এই ধারার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত জুন মাসে মালিউক “স্পাইডার ওয়েব” নামে পরিচিত অপারেশনটির সমন্বয়কারী ছিলেন। এই অভিযানে একশেরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার গভীর অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোতে আঘাত হানায় সফল হয়েছে। এই সফলতা মালিউকের কৌশলগত দক্ষতা ও গোপনীয় আক্রমণের ক্ষেত্রে তার বিশেষজ্ঞতা তুলে ধরেছে।
ইভহেনি খমারা, যিনি নতুন প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন, একই অপারেশনের প্রস্তুতিতে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রাখেন। তার পূর্ববর্তী কাজের মধ্যে গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, পাশাপাশি বিশেষ অপারেশন পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত। এই পটভূমি তাকে SBU-র নেতৃত্বে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
মালিউকের পদত্যাগের পর দেশীয় সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা দেখা গিয়েছে। বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্তকে স্বল্পদৃষ্টিকোণী হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন এবং মালিউকের অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি হারানোর ঝুঁকি উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, মালিউক প্রথমে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন। তবে প্রেসিডেন্টের আদেশে শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের পথে অগ্রসর হন। এই প্রক্রিয়া দেশের নিরাপত্তা সংস্থার অভ্যন্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তনের জটিলতা ও সংবেদনশীলতা প্রকাশ করে।
পদত্যাগের পরেও মালিউককে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অপারেশন চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলেন্স্কি উল্লেখ করেছেন যে ইউক্রেনকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আরও অ-সামরিক, অ-সমমিতি অপারেশন প্রয়োজন এবং এই ক্ষেত্রে মালিউক সর্বোত্তম সক্ষমতা রাখেন।
খমারার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের ফলে SBU-র কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে এসেছে। তবে প্রাক্তন SBU কর্মী ইভান স্টুপাকের মতে, খমারার সুনাম যদিও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের মধ্যে দৃঢ়, তবে পুরো সংস্থার পরিচালনা ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা পরিচালনায় তার সক্ষমতা এখনও পরীক্ষা করা বাকি।
স্টুপাক আরও যুক্তি দিয়েছেন যে মালিউকের পদত্যাগের পেছনে নতুন গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানভের নিযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বুদানভের নতুন দায়িত্ব এবং SBU-র নেতৃত্বের পরিবর্তনগুলো একসাথে ইউক্রেনের গোপনীয় কৌশলগত দিকনির্দেশনা পুনর্গঠন করতে পারে। ভবিষ্যতে এই পরিবর্তনগুলো দেশের নিরাপত্তা নীতি, গোপনীয় অপারেশন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের গতিপথে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



