ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তার মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমানের মাধ্যমে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারী সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করার প্রবণতা দেখাচ্ছে এবং রিটার্নিং অফিসাররা সামান্য সংশোধনযোগ্য ত্রুটির ভিত্তিতে মনোনয়ন বাতিল করে প্রার্থীদের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।
গাজী আতাউর রহমান মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষ করার পর এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তে কিছু রাজনৈতিক দলকে ‘ভিভিআইপি প্রোটোকল’ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে, যা সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
নির্বাচন কমিশন রোববার জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের জন্য মনোনয়নপত্রের চূড়ান্ত যাচাই সম্পন্ন করেছে। রিটার্নিং অফিসারদের মতে, ১,৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হয়েছে, আর ৭২৩ জনের পত্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিলের কারণ হিসেবে বিভিন্ন ছোটখাটো ত্রুটি উল্লেখ করা হয়েছে।
আতাউর রহমান উল্লেখ করেন, কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের পেছনে অযৌক্তিক কারণ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এক প্রার্থীর বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া মাত্র এক হাজার টাকা থাকায় তার পত্র বাতিল করা হয়েছে। অন্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে, ব্যাংকে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে স্টেটমেন্ট জমা দিলেও ‘ওপেনিং ডেট’ না থাকায় তা গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া, স্বাক্ষরের মধ্যে এক-দুইটি ছোটখাটো ভুল বা স্বাক্ষরের অনুপস্থিতি থেকেও মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, মনোনয়ন বাতিলের জন্য নির্ধারিত মানদণ্ডে কোনো ব্যতিক্রম করা হয় না এবং সব প্রার্থীকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা হয়। তবে গাজী আতাউর রহমানের মতে, ঋণ খেলাপি, তথ্য গোপন বা গুরুতর অপরাধের মতো স্পষ্ট কারণ বাদে, সংশোধনযোগ্য ত্রুটিগুলোকে অতীতে মাফ করা হলেও এবার কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে প্রার্থীরা মানসিক চাপ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
আতাউর আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে কিছু রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর খবর নিয়ে অতিরিক্ত গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর আশেপাশে বাড়াবাড়ি করা গুজবের দিকে ইঙ্গিত করেন এবং জানান, শোকের নামে স্কুলগুলোতে মাসব্যাপী পোস্টার লাগিয়ে রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, গাজী আতাউর রহমান ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যদি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সমতা না থাকে, তবে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং প্রার্থীদের মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বাড়বে। তিনি আশাবাদী থেকেও জোর দিয়ে বলেন, সকল পক্ষের সহযোগিতায় একটি ন্যায়সঙ্গত ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা দরকার।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং অফিসারদের কাজকে স্বাধীন ও স্বচ্ছ বলে তুলে ধরেছে এবং উল্লেখ করেছে যে, সকল বাতিলের পেছনে আইনগত ভিত্তি রয়েছে। তবে গাজী আতাউরের মন্তব্যের পরেও, রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের আইনি অধিকার ব্যবহার করে আপিল করতে পারেন।
এই পরিস্থিতিতে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, নির্বাচনের ফলাফল এবং প্রক্রিয়ার প্রতি জনমত গঠনমূলকভাবে প্রভাবিত হবে। যদি প্রার্থীরা এবং দলগুলো নির্বাচনের ন্যায্যতা নিয়ে অব্যাহতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তবে তা ভোটারদের অংশগ্রহণের হার এবং নির্বাচনী ফলাফলের বৈধতায় প্রশ্ন তুলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রিটার্নিং অফিসারদের দ্বারা ছোটখাটো ত্রুটির ভিত্তিতে মনোনয়ন বাতিলের প্রক্রিয়া, সরকারী সংস্থার নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করার সম্ভাবনা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে এবং নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।



