ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সাম্প্রতিক সপ্তাহে একাধিক সামরিক চেকপোস্ট গড়ে তোলা হয়েছে, যা শহরের চলাচল ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতাকে কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ওয়ান-সিকিউরিটি দাবি করা হলেও, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে রাজনৈতিক দমনমূলক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। একই সময়ে, বিদেশি সাংবাদিকদের শহরে প্রবেশের অনুমতি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাজকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, শহরের বিভিন্ন মোড়ে প্রায় কয়েক ডজন চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে সশস্ত্র সৈন্যদের উপস্থিতি স্পষ্ট। এই চেকপোস্টগুলোতে গাড়ি ও ব্যক্তিগত চলাচল কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়, এবং কোনো অননুমোদিত প্রবেশকারীকে তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর এই দৃশ্যমান উপস্থিতি শহরের সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন রুটিনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।
বিশেষ করে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য প্রবেশের বাধা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে; তারা কোনো পারমিট ছাড়া শহরের সীমা অতিক্রম করতে পারছে না। এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর রিপোর্টিং ক্ষমতাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে এবং ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে বহিরাগত দৃষ্টিভঙ্গি সীমিত করছে।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা কাতিউস্কা ক্যামারগো জানান, পেটারে নামক এলাকায় সশস্ত্র কর্মীরা রাস্তায় টহল দিচ্ছেন এবং বাসিন্দাদের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসও পরীক্ষা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের নজরদারি নাগরিকের গোপনীয়তা ও মৌলিক স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। ক্যামারগো এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, যা শীঘ্রই বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ নিতে পারে।
সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের ইউনিয়ন জানিয়েছে, সোমবার সকালে মোট চৌদ্দজন সাংবাদিককে সাময়িকভাবে আটক করা হয়, যদিও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, এবং তাদের মুক্তির পরেও তারা কঠোর নজরদারির মুখে রয়েছেন। এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দেয়।
গত শনিবার ভোরে, মার্কিন বাহিনী একটি নাটকীয় অপারেশন চালিয়ে কারাকাস থেকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিরাপদে বের করে নিয়ে যায়। এই অপারেশনকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ‘ফিল্মি স্টাইল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। মাদুরোর হঠাৎ অপসারণ দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি করেছে এবং সরকারকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে।
এই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। সরকারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিদেশি সাংবাদিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে, এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপকে সংবাদস্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করছে। অপরদিকে, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে প্রতিবাদ ও সমবায়ের সম্ভাবনা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংলাপের নতুন দিক নির্ধারণ করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের সমন্বয় শেষ পর্যন্ত দেশের শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির



