কারাকাসে সোমবার, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা দ্বারা ভেনেজুয়েলীয় নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার পরের ঘটনাবলীর প্রতিবেদন করতে গিয়ে অন্তত চৌদ্দজন সাংবাদিককে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক করা হয়। গ্রেফতারের বেশিরভাগই বিদেশি সংবাদ সংস্থার কর্মী, যাদের মধ্যে একজনকে দেশ থেকে বহিষ্কৃত করা হয়।
ভেনেজুয়েলার মিডিয়া ইউনিয়ন জানায়, গ্রেফতারগুলো জাতীয় পরিষদ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায়, পাশাপাশি রাজধানীর আল্টামিরা পাড়া থেকে সংঘটিত হয়েছে। দুইজনকে ভেনেজুয়েলীয় সামরিক গোপনচর সংস্থার এজেন্টরা সরাসরি আটক করেছে, আর বাকি সাংবাদিকদের গোপনচর সংস্থার কর্মীরা জড়িয়ে নিয়েছে। আটককৃতদের ক্যামেরা, রেকর্ডার ও মোবাইল ফোনের বিষয়বস্তু পরীক্ষা করা হয়, সামাজিক মিডিয়ার পোস্ট ও বার্তাগুলোও পর্যালোচনা করা হয়।
সেই একই দিনে, দেলসি রদ্রিগেজ interim প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের পর তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকার ভেনেজুয়েলাকে “চালনা” করার কথা উল্লেখ করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
সীমান্তে, কোলোম্বিয়া-ভেনেজুয়েলা সীমান্তের কুকুতা নিকটবর্তী এলাকায় একটি কলম্বিয়ান ও একটি স্প্যানিশ সাংবাদিককে কয়েক ঘণ্টা ধরে যোগাযোগবিহীনভাবে আটক করা হয়। পরে তারা কলম্বিয়ায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি পায়। ইউনিয়ন এই ঘটনাকে “বিপজ্জনক” বলে উল্লেখ করে এবং বর্তমানে দেশের মধ্যে আটকে থাকা ২৩ জন মিডিয়া কর্মীর মুক্তি দাবি করে।
মিডিয়া কর্মীদের ওপর এই দমনমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি, ক্যারাকাসের পেটারে একটি স্থানীয় নেতার মতে, মুখোশধারী গুলি-ধারী লোকজন রাস্তা ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং বাসিন্দাদের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস চেক করছেন। ৬০ বছর বয়সী জোসে নামের এক বাসিন্দা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছে না; শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, সামরিক বাহিনী এবং মাদুরোর সমর্থক গোষ্ঠী “কোলেকটিভোস” মুখোশ পরিহিত অবস্থায় উপস্থিত।
এই ঘটনার ফলে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংস্থা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, সাংবাদিক স্বাধীনতা ও প্রকাশের অধিকার ভঙ্গের ফলে দেশের রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়তে পারে। দেলসি রদ্রিগেজের নতুন interim প্রেসিডেন্সি কি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নীতি পরিবর্তন করবে, নাকি বর্তমান দমন নীতি বজায় রাখবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
ভেনেজুয়েলীয় মিডিয়া ইউনিয়ন ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে, যাতে গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি এবং অবশিষ্ট ২৩ জন মিডিয়া কর্মীর মুক্তি নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে, তারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সহায়তা চেয়ে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বাজারে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক শক্তির হস্তক্ষেপের সমন্বয়ে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপট অনিশ্চিত রয়ে গেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে, তা সময়ই বলবে।



