ভেনেজুয়েলা রাজনৈতিক সংকটের মাঝখানে, বিরোধী দলনেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের সামরিক পদক্ষেপকে মানবতা ও স্বাধীনতার জন্য বিশাল অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩ জানুয়ারি তারিখকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দিন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং এটিকে শুধুমাত্র ভেনেজুয়েলার নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
মাচাদো, যিনি ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন যে তিনি তার নোবেল পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান। তিনি জানান, নোবেল জয়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পুরস্কারটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছেন এবং বিশ্বাস করেন যে তিনি এই স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। মাচাদো আরও উল্লেখ করেন যে ভেনেজুয়েলার জনগণও ট্রাম্পকে এই পুরস্কার দিতে ইচ্ছুক হবে এবং তার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাইবে।
ট্রাম্পের পদক্ষেপের প্রশংসা করে মাচাদো বলেন, ভেনেজুয়েলার মানুষ এখন স্বাধীনতার কাছাকাছি। তিনি ট্রাম্পের দূরদৃষ্টির এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ট্রাম্পের কথাকে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন। একই সময়ে তিনি ডেলসি রদ্রিগেসকে, যিনি মাদুরোর পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, কঠোর সমালোচনা করেন। মাচাদো রদ্রিগেসকে মাদুরো শাসনের নির্যাতন, নিপীড়ন ও দুর্নীতির অন্যতম দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ তাকে গ্রহণ করতে পারে না।
মাচাদো দাবি করেন, যদি ভেনেজুয়েলায় স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন হয়, তবে বিরোধী জোট ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পাবে। তিনি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কয়েক মাস আত্মগোপনে ছিলেন এবং বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন, তবে শীঘ্রই দেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তিনি যত দ্রুত সম্ভব ভেনেজুয়েলায় ফিরে গিয়ে দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে এবং অপরাধমূলক কাঠামো ধ্বংস করতে চান।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি মাচাদোর প্রতি কিছুটা অনীহা প্রকাশ করে বলেছেন যে, দেশের ভিতরে তার যথেষ্ট সমর্থন নেই। তবে মাচাদো এই মন্তব্যের উপর সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যের ওপর।
এই ঘটনাগুলি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপ এবং মাচাদোর নোবেল পুরস্কার ভাগাভাগির ইচ্ছা উভয়ই ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই পদক্ষেপগুলির পরিণতি কী হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



