ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) আজ নির্বাচনের পূর্বে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতি ভিভিপি প্রোটোকল প্রদান করা হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইএবির সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও মুখপাত্র গাজি আতাউর রহমান আজ সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের প্রধান, এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে নির্বাচনী কমিশনের ভবনে আঘারগাঁও, ঢাকা-তে বৈঠক শেষে এই মন্তব্য করেন।
বৈঠকে আইএবের জয়েন্ট সেক্রেটারি শেইখ ফজলে বরি মাসুদ এবং লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স এডিটর শাওকত আলি হাওলাদারও উপস্থিত ছিলেন। গাজি আতাউর উল্লেখ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে বিশেষ ভিভিপি সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে, যা সমান প্রতিযোগিতার নীতিকে ক্ষুণ্ন করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের বৈষম্য জনমতকে বিভ্রান্ত করছে এবং স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
অস্ত্র পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গাজি আতাউর জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে চুরি হওয়া অস্ত্রের সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার এখনো সম্পন্ন হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন প্রায় ৭০ শতাংশ অস্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে, তবে পূর্বের নির্বাচনে তুলনায় এই প্রক্রিয়ার গতি ধীর হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্রের পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ থাকে।
গাজি আতাউর এছাড়াও রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এইবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই চ্যার্টার নিয়ে একটি রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠিত হবে। তবে রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত প্রচার ও আলোচনা এখনো সীমিত, এবং নির্বাচন কমিশনও এ বিষয়ে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছে না। তিনি বলেন, রেফারেন্ডামের বিষয়টি জনসাধারণের মধ্যে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে ভোটাররা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
বৈঠকের পর গাজি আতাউর আইএবের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেন, যাতে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা যায় এবং ভিভিপি প্রোটোকল প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্রের পুনরুদ্ধার দ্রুততর করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
একই সময়ে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করার সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। টিআইবি দাবি করে, এই ধরনের ব্যয়জনক ব্যবস্থা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার পরিবর্তে আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে দেয়। তারা সরকারকে অনুরোধ করে, পর্যবেক্ষকদের ব্যয় নিজে বহন করার পরিবর্তে অন্যান্য স্বচ্ছতা নিশ্চিতকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
আইএবের এই প্রকাশনা এবং টিআইবির আহ্বান উভয়ই দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে। উভয় সংস্থাই একসাথে জোর দিয়ে বলছে, নির্বাচনের সময় সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ প্রদান এবং অবৈধ অস্ত্রের পুনরুদ্ধার দ্রুততর করা জরুরি।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে গাজি আতাউরের মন্তব্য এবং টিআইবির আহ্বান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যারা পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ এবং নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশের ওপর দৃষ্টি রাখবে।
এইসব বিষয়ের আলোকে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সমতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রেফারেন্ডাম উভয়ই ন্যায়সঙ্গত ও নির্ভরযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে।



