19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআখাউড়া মোগড়া ইউনিয়নে তুলা ফ্যাক্টরি ও কনফেকশনারি দোকানে বিশাল অগ্নিকাণ্ড

আখাউড়া মোগড়া ইউনিয়নে তুলা ফ্যাক্টরি ও কনফেকশনারি দোকানে বিশাল অগ্নিকাণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া জেলায় মোগড়া ইউনিয়নের দরুইন এলাকায় মঙ্গলবার দুপুর প্রায় দুইটায় একটি তুলা ফ্যাক্টরি এবং সংলগ্ন কনফেকশনারি দোকানে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ অগ্নি নির্বাপন দল পৌঁছায় এবং প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। কোনো আহতের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি, তবে সম্পত্তি ক্ষতি লক্ষ লক্ষ টাকার পরিমাণে হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে ফ্যাক্টরির কর্মী মাঈনুদ্দিনের মতে বিদ্যুৎ মিটারে হঠাৎ স্পার্ক জ্বলে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফ্যাক্টরিতে প্রায় চল্লিশ বস্তা তুলা মজুদ ছিল, যা দ্রুত জ্বলে গিয়ে মেশিন, বৈদ্যুতিক তার এবং মিটারসহ সবকিছু পুড়িয়ে দেয়। আগুন প্রায় এক ঘন্টার অর্ধেক সময় ধরে জ্বলতে থাকে, এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিখা নিভিয়ে দেয়।

ফ্যাক্টরির মালিক মো. ইসমাইল মিয়া জানান, কর্মীরা কাজের সময় বিদ্যুৎ মিটারে স্পার্ক দেখা দেয় এবং তা থেকে অগ্নি ছড়িয়ে পড়ে। এতে ফ্যাক্টরির তিনটি মেশিন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, বিশাল পরিমাণ তুলা এবং তার ছেলের কনফেকশনারি দোকানের সব সামগ্রী ধ্বংস হয়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ তিনি আনুমানিক বিশ থেকে পঁচিশ লাখ টাকার মধ্যে বলে অনুমান করেন।

আখাউড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. নান্নু মিয়া জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আগুন নিভাতে কাজ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তুলা মেশিনগুলো বিদ্যুৎচালিত হওয়ায় দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে অতিরিক্ত লোড সৃষ্টি হয়, যা মিটারে স্পার্কের সম্ভাবনা বাড়ায়। এ ধরনের ঘটনা রোধে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও লোড ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ।

অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের দল দ্রুতই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট জমা দেয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কোনো অপরাধমূলক দিক আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটিকে গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে, একই ধরণের শিল্প প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে কর্মীদের জন্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. ইসমাইল মিয়া জানান, তিনি এবং তার পরিবার এই ক্ষতির ফলে আর্থিক চাপের মুখে আছেন, তবে তারা পুনর্নির্মাণের জন্য সরকারী ও বেসরকারি সহায়তা প্রত্যাশা করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আরও জোর দেওয়া হবে।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দ্রুতই অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পানির হোসে ও ফোম ব্যবহার করেন। তারা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় গুদামে সঞ্চিত তুলা ও মেশিনের উচ্চ দাহ্যতা আগুনের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করেছিল। তবে দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে বড় ধরণের সম্পদ ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় সরকার এই ঘটনার পর জরুরি সেবা ও শিল্প নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে। বিশেষ করে, বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও অতিরিক্ত লোড নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে আখাউড়া জেলায় শিল্প নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়িক সমিতি ও শিল্প সংস্থা গুলোও নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলার জন্য সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও পরিদর্শন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

সামগ্রিকভাবে, অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও সম্পত্তি ক্ষতি ও ব্যবসায়িক ক্ষতি উল্লেখযোগ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments