19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআশুলিয়ায় মরদেহ পোড়ানো মামলায় আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য ১১ জানুয়ারি নির্ধারিত

আশুলিয়ায় মরদেহ পোড়ানো মামলায় আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য ১১ জানুয়ারি নির্ধারিত

সাভার আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ছয়জনের মৃতদেহকে একটি নৌকায় স্তূপ করে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া নৃশংস ঘটনার মামলায় আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ আদালত নির্ধারণ করেছে। এই সাফাই সাক্ষ্য ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষতা প্রমাণের সুযোগ পাবে।

ঘটনাটি ঘটে যখন ছাত্র-জনতা প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী দলগুলো আশুলিয়ার একটি জায়গায় গিয়ে মৃতদেহগুলোকে নৌকায় স্তূপ করে পেট্রোল ছিটিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। মোট ছয়জনের দেহকে একসঙ্গে পুড়িয়ে দেওয়া হয়, যা দেশের ইতিহাসে বিরল নৃশংস অপরাধ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি-২) এই মামলাটি শুনছে। ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত, আর প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

গত ৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের শেষ সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) জানে আলম খান আদালতে তার সাক্ষ্য প্রদান করেন। তার সাক্ষ্য শেষ হওয়ায় আইসিটি-২-এর নিয়ম অনুযায়ী এখন আসামিপক্ষকে সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য ১১ জানুয়ারি নির্ধারিত হওয়ায় আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সাক্ষ্যগ্রহণে অভিযুক্তরা তাদের দোষ অস্বীকারের পাশাপাশি প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবে।

মামলায় মোট ২৬জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে নৃশংস অপরাধ, দেহপোড়া এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা লঙ্ঘন অন্তর্ভুক্ত।

অভিযুক্তদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী এবং সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত সুপার মো. শাহিদুল ইসলামও রয়েছেন। উভয়ই পূর্বে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন, তবে বর্তমানে তারা কারাগারে আটক অবস্থায় রয়েছে।

মোট আটজন অভিযুক্ত বর্তমানে কারাবন্দি, যার মধ্যে উপরে উল্লেখিত দুইজনের পাশাপাশি আরও ছয়জনের নাম তালিকায় রয়েছে। বাকি অভিযুক্তরা এখনও জেল বা রেহাই অবস্থায় রয়েছে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য শেষ হলে আদালত পরবর্তী রায়ের দিকে অগ্রসর হবে। আইসিটি-২-এর প্রক্রিয়ায় প্রমাণের যথার্থতা ও আইনি যুক্তি বিবেচনা করে চূড়ান্ত রায় প্রদান করা হবে।

এই মামলায় সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ প্রাপ্তি আইনি প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক ধাপ, যা নিশ্চিত করে যে প্রতিটি পক্ষের যুক্তি সমানভাবে বিবেচনা করা হবে। আদালত এই পর্যায়ে উভয় পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রমাণ মূল্যায়ন করবে।

আশুলিয়ায় ঘটিত এই নৃশংস অপরাধের তদন্ত ও বিচার দেশের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের সিদ্ধান্ত দেশের আইনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিবেচিত হবে।

পরবর্তী আদালত শোনার তারিখ ১১ জানুয়ারি নির্ধারিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ ও জনসাধারণের দৃষ্টি এই দিনটির দিকে কেন্দ্রীভূত থাকবে। মামলার চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় আইসিটি-২ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments