জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের প্রধান কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর একটি ব্রিফিংয়ে নির্বাচনের পূর্বে প্রশাসন নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতি একতরফা পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত দেখাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আসিফ মাহমুদ সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ত্যাগ করে এনসিপিতে যোগদান করেন। তিনি পূর্বে সরকারী দায়িত্বে ছিলেন এবং এখন পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছেন।
ব্রিফিংটি নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি প্রধান কমিশনারের সঙ্গে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনা করেন। এরপর তিনি মিডিয়ার সামনে তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন, যা তিনি ‘একটি নির্দিষ্ট দলের’ প্রতি প্রশাসনের অযৌক্তিক সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
মাহমুদের মতে, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা নির্দিষ্ট একটি পার্টি অফিসের দিকে তাদের দিকনির্দেশনা ঠিক করে নিয়মিত সেখানে গমন করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের চলাচল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বতন্ত্রতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইনফরমেশন (এনএসআই) এর প্রধান সাম্প্রতিক সময়ে একটি দলের প্রধানের সঙ্গে পার্টি অফিসে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো বিষয় থাকলে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান যেকোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন, তবে তা স্বচ্ছভাবে করা উচিত।
এটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এবং অতীতের ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ’ সময়ের অনুরূপ চর্চা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে সতর্ক করেন। তিনি অতীতের বাজে চর্চা পুনরায় দেখা যাওয়াকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন।
এই মন্তব্যের পটভূমিতে সাম্প্রতিক দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। ২৫ ডিসেম্বর বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আসেন, এবং ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মারা যান। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের প্রশাসন সবসময় ক্ষমতাসীনদের দিকে ঝোঁক রাখে, তবে ক্ষমতা অর্জনের আগে, জনসাধারণের নজরে এ ধরনের ধৃষ্টতা সহ্য করা যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন কোনো আচরণকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন বা সুবিধা প্রদান করা হয়, তা স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতিতে করা উচিত, অন্যথায় তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ন করবে।
নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের প্রতি কোনো মন্তব্য করেনি, এবং বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের কাছ থেকে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি এই অভিযোগগুলো বাস্তবায়িত হয় এবং যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।
এনসিপি এই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে এবং নির্বাচনের পূর্বে সকল পক্ষকে ন্যায়পরায়ণ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার জন্য সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযোগের সমাধান ও পর্যবেক্ষণ নির্বাচনী স্বচ্ছতার মূল চাবিকাঠি হয়ে থাকবে।



