সেগওয়ে কোম্পানি ২০২৬ সালের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত সিইএস (Consumer Electronics Show) তে দুইটি নতুন ই‑বাইক উপস্থাপন করেছে। প্রথমটি ‘মায়ন’ নামে একটি স্টেপ‑থ্রু ডিজাইন, আর দ্বিতীয়টি ‘মুক্সি’ নামে একটি ছোটাকার কার্গো‑বাইক। উভয় মডেলই সেগওয়ের মাইক্রোমোবিলিটি পোর্টফোলিওতে নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের লক্ষ্যে প্রকাশিত হয়েছে।
‘মায়ন’ একটি চওড়া সিট সহ স্টেপ‑থ্রু ফ্রেম, যার নিচে বড় প্যানিয়ার র্যাক সংযুক্ত। এই র্যাকটি দীর্ঘ দূরত্বে যাত্রা করার সময় সামান্য সামগ্রী বহন করার সুবিধা দেয়। একই রকমের ই‑বাইক বাজারে প্রচুর থাকলেও সেগওয়ে দাবি করে যে তার প্রযুক্তিগত সংযোজনগুলো পারফরম্যান্সে পার্থক্য তৈরি করবে।
মায়নের গিয়ার শিফটিং সিস্টেমটি ইলেকট্রনিক, যা শিমানো CUES চেইন ড্রাইভট্রেইনের সঙ্গে যুক্ত। ইলেকট্রনিক মোটর অপটিমাইজেশন এবং সেগওয়ের নিজস্ব ‘ইন্টেলিজেন্ট রাইড সিস্টেম’ (Intelligent Ride System) একসাথে কাজ করে। এই সিস্টেমটি গিয়ার পরিবর্তন, গতি ও টর্ক সেন্সর, এবং জাইরোস্কোপের তথ্য ব্যবহার করে রাইডারকে সর্বোত্তম সহায়তা প্রদান করে।
সেগওয়ের ‘টারবোটিউন্ড’ (TurboTuned) প্রযুক্তি ব্যাটারি ও মোটরের পারফরম্যান্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামঞ্জস্য করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি রাইডার পাহাড়ে ওঠে, সিস্টেমটি পূর্বেই শক্তি বাড়িয়ে দেয়, ফলে পেডালিং সহজ হয়। ট্র্যাফিক সিগন্যালের সামনে থামলে, পেডাল চাপের ক্ষুদ্রতম পরিবর্তনেও হঠাৎ ত্বরান্বিত না হয়ে মসৃণভাবে গতি পুনরায় শুরু হয়।
স্মার্ট ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপল ‘ফাইন্ড মাই’ নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন, জিপিএস ট্র্যাকিং, রিমোট লকিং, এবং পছন্দের স্বাস্থ্য‑ফিটনেস অ্যাপের সঙ্গে সংযোগ। ব্যবহারকারী স্মার্টফোনের মাধ্যমে বাইককে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যেমন লক/আনলক করা, ব্যাটারি স্তর পর্যবেক্ষণ এবং রাইড ডেটা রেকর্ড করা। এই সব ফিচার রাইডারকে নিরাপদ ও সংযুক্ত অভিজ্ঞতা দেয়।
‘মুক্সি’ (উচ্চারণ: মূ‑শি) একটি অনন্য ডিজাইনের ই‑বাইক, যা লংটেল কার্গো‑বাইকের মত গঠন, তবে লম্বা টেল অংশটি কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে বডি কমপ্যাক্ট হলেও এখনও বড় পরিমাণের সামগ্রী বহন করা সম্ভব। সেগওয়ে উল্লেখ করেছে যে মুক্সি মূলত শহুরে পরিবহন ও ডেলিভারি কাজের জন্য উপযোগী, তবে নির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন ও মূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।
দুইটি মডেলই সেগওয়ের ‘ইন্টেলিজেন্ট রাইড সিস্টেম’ এবং ‘টারবোটিউন্ড’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা রাইডারকে রিয়েল‑টাইমে পারফরম্যান্স সামঞ্জস্যের সুবিধা দেয়। এই প্রযুক্তিগুলো গতি, টর্ক এবং ব্যাটারি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়িয়ে, দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা সহজ করে। বিশেষ করে শহুরে পরিবেশে যেখানে ট্র্যাফিক জ্যাম ও হঠাৎ গতি পরিবর্তন সাধারণ, এই সিস্টেমগুলো রাইডারকে স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করে।
সেগওয়ের এই নতুন পণ্যগুলো মাইক্রোমোবিলিটি ক্ষেত্রে তার অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রকাশিত হয়েছে। পূর্বে স্কুটার ও হোভারবোর্ডে বেশি মনোযোগ দেওয়া সেগওয়ে, এখন ই‑বাইক বাজারে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পরিবর্তনটি শিল্পের প্রবণতা অনুসরণ করে, যেখানে শহুরে যাতায়াতের জন্য ই‑বাইককে পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিইএস-এ উন্মোচিত হওয়ায়, মায়ন ও মুক্সি উভয়ই আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। শিল্প বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে সেগওয়ের এই পদক্ষেপটি ই‑বাইক বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে এবং ভোক্তাদের জন্য আরও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত পণ্য সরবরাহ করবে।
উল্লেখযোগ্য যে, উভয় মডেলই অ্যাপল ফাইন্ড মাই, জিপিএস এবং রিমোট লকিংয়ের মতো সংযুক্ত ফিচার সমৃদ্ধ, যা স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া, ই‑বাইক ব্যবহারকারী স্বাস্থ্য‑ফিটনেস অ্যাপের সঙ্গে ডেটা শেয়ার করে নিজের ফিটনেস রেকর্ড ট্র্যাক করতে পারবেন। এই সংযুক্তি ভবিষ্যতে ই‑বাইককে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
সেগওয়ের এই ঘোষণার মাধ্যমে ই‑বাইক শিল্পে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের নতুন ধারা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। মায়ন ও মুক্সি উভয়ই ব্যবহারিকতা ও স্মার্ট ফিচারকে একত্রিত করে, শহুরে যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক সমাধান প্রদান করতে চায়। ভবিষ্যতে এই ধরনের পণ্যগুলো কীভাবে বাজারে গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা শিল্পের বিকাশের দিক নির্ধারণ করবে।
সেগওয়ের সিইএস ২০২৬ উপস্থাপনা শেষ হয়েছে, তবে মায়ন ও মুক্সি সম্পর্কে আরও বিশদ তথ্য, যেমন দাম ও লঞ্চ তারিখ, পরবর্তী সময়ে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।



