জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন (JnUcsu) নির্বাচনের ভোটদান আজ (১ জানুয়ারি) শেষ হয়েছে। চিফ ইলেকশন কমিশনার মোস্তফা হাসান জানান, অধিকাংশ কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি ৬০ শতাংশের উপরে পৌঁছেছে।
মোট ৩৯টি ভোটদান কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা ব্যালট বক্সগুলো আজ বিকেল প্রায় ৪:১৫ টায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পৌঁছেছে। ভোটদান প্রক্রিয়া ৩:৩০ টায় শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে কিছু কেন্দ্রে সময়সীমা অতিক্রম করে ভোটগ্রহণ অব্যাহত থাকে।
কমিশনারের নির্দেশে ভোটদানকারী কর্মকর্তারা কেন্দ্রগুলো বন্ধ না করে, লাইনে অপেক্ষমাণ সব ছাত্রকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। তিনি উল্লেখ করেন, “যে সকল ছাত্র এখনও লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।” ফলে শেষ পর্যন্ত কয়েকটি কেন্দ্রে অতিরিক্ত সময়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
এই নির্বাচনের পটভূমিতে সেপ্টেম্বর ১৭ তারিখে ছাত্রদের প্রতিবাদ ঘটায়, যার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে ২৭ নভেম্বরের জন্য ভোটের সময় নির্ধারণ করে। তবে ভূমিকম্পের আতঙ্ক ও ক্যাম্পাস বন্ধের কারণে এই তারিখটি ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়া হয়।
২২ ডিসেম্বরের পরিকল্পনাও শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয় না; ৩০ ডিসেম্বরের নির্ধারিত তারিখে আবারও ভোট বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে আসে।
বিলম্বের পর, ইলেকশন কমিশন আজ (১ জানুয়ারি) নতুন ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে, যা আজকের দিনেই অনুষ্ঠিত হয়। এই পরিবর্তনগুলো ছাত্র সমাজের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
ভোটের ফলাফল ও অংশগ্রহণের হার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে কমিশনারের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে ভোটদান প্রক্রিয়া বেশ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচনের সময়সূচি ও ফলাফল সম্পর্কে আপডেট পেতে ছাত্র ও সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ইলেকশন কমিশনের ঘোষণাপত্র নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই নির্বাচন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র স্বায়ত্তশাসন ও নেতৃত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও সময়মত পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন আনা উচিত।
অবশেষে, ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের হার ৬০ শতাংশের বেশি হওয়া শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের উচ্চ অংশগ্রহণের হার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
পাঠকরা যদি ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনের তারিখ বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার প্রয়োজন অনুভব করেন, তবে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিষদ বা ইলেকশন কমিশনের অফিসিয়াল যোগাযোগ চ্যানেল ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।



