শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম – দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি বিবেচনা করে, বিমানবন্দরের টার্মিনাল ড্রাইভওয়ের প্রবেশাধিকার অ-যাত্রী গাড়ি ও দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি নিরাপত্তা কমিটির মাসিক সমন্বয় সভায় একমত হয়ে গৃহীত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে যাত্রী বহনকারী গাড়িগুলোকে এখন সরাসরি প্রধান পার্কিং এলাকা অথবা কার্গো পার্কিংয়ে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা যাত্রী গ্রহণ ও অবতরণ করতে পারবে। ড্রপ-অফের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র পার্কিংয়ে প্রবেশকারী গাড়িগুলোর পার্কিং ফি সংগ্রহ করা হবে না, এবং এই বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত ফি আদায় সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারকারী রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ ও তাদের পরিবারকে যাত্রার সময় প্রবেশের অনুমতি থাকবে, তবে তাদেরকে শুধুমাত্র প্রোটোকল পাস প্রদর্শন করে একজন অনুমোদিত ব্যক্তিকে সঙ্গী হিসেবে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রোটোকল সম্পন্ন করার জন্য গৃহীত হয়েছে।
সিকিউরিটি কমিটির সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হল দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করা। টার্মিনাল ড্রাইভওয়ে বন্ধের মাধ্যমে অ-যাত্রী গাড়ি ও অপ্রয়োজনীয় ভিজিটরদের প্রবেশ সীমাবদ্ধ করে, নিরাপত্তা কর্মীদের কাজের চাপ কমানো এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা।
অধিকন্তু, ডিবি (ডিফেন্স ব্যুরো) প্রধানের সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে, যার মধ্যে মাসুদ নামের এক ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত। ইতিমধ্যে ১২ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই তথ্যটি নিরাপত্তা সংস্থার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের পূর্বে দেশের নিরাপত্তা অবকাঠামোকে দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। টার্মিনাল ড্রাইভওয়ে বন্ধের ফলে যাত্রী ও গাড়ি চলাচলের পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আসবে, তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা পূরণে এই পরিবর্তনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ভিআইপি প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রোটোকল পাসের মাধ্যমে একাধিক নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট অতিক্রম করতে হবে, যা নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত নজরদারি সহজ করে। একই সঙ্গে, যাত্রী বহনকারী গাড়িগুলোকে প্রধান পার্কিংয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে গেটের ভিড় কমে যাবে এবং নিরাপত্তা কর্মীদের পর্যবেক্ষণ সহজ হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিমানবন্দরের আশেপাশের ট্র্যাফিকেও প্রভাব পড়তে পারে; স্থানীয় গাড়ি চালকদেরকে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত নির্দেশনা পাওয়া পর্যন্ত টার্মিনাল ড্রাইভওয়ে ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই কঠোর পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের সময় দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বলে সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে অথবা নির্বাচনের পর নতুন নির্দেশনা প্রকাশিত হলে, টার্মিনাল ড্রাইভওয়ের ব্যবহার পুনরায় অনুমোদিত হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ড্রাইভওয়ে অ-যাত্রী গাড়ি ও দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করা একটি কৌশলগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা দেশের নিরাপত্তা ও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে, ডিবি প্রধানের উল্লেখিত অপরাধমূলক মামলা ও গ্রেফতারগুলো নিরাপত্তা সংস্থার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



