চেলসি ক্লাবের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে লিয়াম রোজেনিয়রকে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগে দলটি বর্তমানে পঞ্চম স্থানে রয়েছে এবং রোজেনিয়রের প্রথম কাজ হবে দ্রুত ফলাফল দেখিয়ে সমর্থকদের আস্থা অর্জন করা।
ক্লাবের মালিকানা ব্লু কো (BlueCo) এর অধীনে, যেখানে টড বোহলি ও ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটাল প্রধান শেয়ারহোল্ডার। সাম্প্রতিক সময়ে ভক্তদের মধ্যে ক্লাবের পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষের স্রোত দেখা দিয়েছে, যা নতুন কোচের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
রোজেনিয়রের ব্লু কো-র সাথে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক রয়েছে। তিনি স্ট্রাসবুর্গে কাজ করার সময় একই মালিকানার অধীনে তিনজন স্পোর্টিং ডিরেক্টরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিয়েছে।
নতুন কোচের জন্য রাজনৈতিক চাতুর্য প্রয়োজন, কারণ পূর্বে এনজো মারেস্কা দলের সঙ্গে মতবিরোধে জর্জরিত হয়ে পদত্যাগ করেন। রোজেনিয়রকে এই ধরনের সংঘর্ষ এড়িয়ে, ক্লাবের নীতি মেনে চলতে হবে এবং নিজের অবস্থানকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
তবে রোজেনিয়রের সামনে সবচেয়ে বড় সংকট নয়; চেলসির বর্তমান দলটি কোনো বড় সংকটে নেই। সাম্প্রতিক ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ড্র করে দলটি ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, যা বড় পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা দূর করে। রোজেনিয়রের কাজ হবে মূল কাঠামো না বদলে সূক্ষ্ম সমন্বয় করা।
প্রধান কাজগুলোর একটি হল কোলে পার্লারের ফিটনেস পুনরুদ্ধার। পার্লার সিজনের শুরুতে গ্যাঁইন আঘাতের কারণে বেশ কিছু ম্যাচ মিস করেছেন, এবং তার ফিরে আসা আক্রমণগত বিকল্প বাড়াবে। এছাড়া, চেলসির ঘরে গেমে নেতৃত্ব হারিয়ে ফলাফল হারানোর প্রবণতা শেষ করতে হবে, যা দলকে জয়ী করে তুলবে।
শৃঙ্খলা বজায় রাখাও রোজেনিয়রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। লিগের ২০টি ম্যাচে দলটি ৪৩টি হলুদ কার্ড ও চারটি লাল কার্ড পেয়েছে, ফলে ফেয়ার প্লে টেবিলে নিচের দিকে রয়েছে। এই পরিসংখ্যান কোচের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়, তাই শৃঙ্খলা বাড়াতে কঠোর প্রশিক্ষণ ও নিয়মাবলী প্রয়োগ করা হবে।
ভক্তদের স্বাগতও অনিশ্চিত। মালিকানার প্রতি অসন্তোষের কারণে অনেক সমর্থক নতুন কোচকে ‘হ্যাঁ-মানুষ’ হিসেবে দেখছেন, যিনি শুধুমাত্র ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশ মেনে চলবেন। রোজেনিয়রের কাজ হবে এই ধারণা ভাঙা এবং দলকে সাফল্যের পথে নিয়ে যাওয়া, যাতে ভক্তদের আস্থা ফিরে আসে।
সারসংক্ষেপে, রোজেনিয়রের সামনে ছোটখাটো পরিবর্তন ও দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার করা, আক্রমণাত্মক বিকল্পগুলোকে সক্রিয় করা এবং ভক্তদের সঙ্গে সেতু গড়ে তোলা প্রধান লক্ষ্য। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে চেলসি কীভাবে এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করে, তা দলীয় পারফরম্যান্সে স্পষ্ট হবে।



