22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় ১৮ মাসে কাজ শুরু করতে পারে

ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় ১৮ মাসে কাজ শুরু করতে পারে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৮ মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল ক্ষেত্র পুনরায় চালু করতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন। এই মন্তব্যটি আসে এমন একটি সামরিক অভিযান পরেই, যেখানে নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধমূলক মামলায় হাজির করা হয়।

ট্রাম্প নেটওয়ার্ক টিভি চ্যানেলে উল্লেখ করেন, তেল শিল্পকে বড় পরিমাণে বিনিয়োগ করতে হবে এবং সেই ব্যয় পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বা পুনরায় ফেরত পাওয়া যাবে। তিনি যুক্তি দেন, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মূল্যের ওপর চাপ কমে যাবে।

এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সাক্ষাৎকারে তেল শিল্পের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, তেল ক্ষেত্রের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা যায়।

ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (BBC) এর বিশ্লেষকরা পূর্বে উল্লেখ করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধার করতে দশকেরও বেশি সময় এবং দশকীয় পরিমাণের বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। তারা বলেন, তেল সংস্থাগুলোকে স্থিতিশীল সরকারী কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে, নতুবা প্রকল্পের ফলাফল বহু বছর পরে আসবে।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা, মাদুরোর অপসারণের পরপরই প্রকাশ পায়, যখন মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধমূলক অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, তেল উৎপাদনকে দ্রুত বাড়ানো সম্ভব, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে প্রকৃত ব্যয় বিশাল হবে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো বহু বছর ধরে অবহেলায় পড়ে এবং বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা তার বিশাল রিজার্ভের তুলনায় অতি কম। দেশটির প্রমাণিত রিজার্ভ প্রায় ৩০৩ মিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ, তবে উৎপাদন মাত্র কয়েক দশক আগে থেকে ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে।

ট্রাম্পের যুক্তি হল, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনরায় চালু হলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, ফলে তেলের দাম স্থিতিশীল থাকবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোকে এই সুযোগে বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াবে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক তেল বাজারের বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলার তেল রিজার্ভের পুনরায় ব্যবহার করা কঠিন, কারণ অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা এখনও বিদ্যমান। তাই তেল সংস্থাগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং সরকারী সমর্থন দরকার হবে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে তেল শিল্পের জন্য অতিরিক্ত তহবিল অনুমোদনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু আইনপ্রণেতা তেল সংস্থাগুলোর জন্য কর সুবিধা এবং ঋণ সাপোর্টের প্রস্তাব দিচ্ছেন, যাতে তারা দ্রুত কাজ শুরু করতে পারে।

ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার, যা মাদুরোর পরবর্তী সময়ে গঠন করা হয়েছে, তেল শিল্পের পুনরায় উত্থানে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে। তারা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তেল ক্ষেত্রের পুনর্গঠনকে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে।

এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কত দ্রুত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তেল সংস্থাগুলোকে বড় মূলধন ব্যয়, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। তদুপরি, আন্তর্জাতিক তেল বাজারের চাহিদা এবং ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এই প্রকল্পের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।

সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল ক্ষেত্র পুনরায় চালু করতে ১৮ মাসের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, যদিও বিশ্লেষকরা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এবং সরকারী স্থিতিশীলতা ছাড়া তা বাস্তবায়ন কঠিন বলে সতর্ক করছেন। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগের ফলাফল আন্তর্জাতিক তেল মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নীতি পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments