চীন বেইজিং রাষ্ট্রীয় দপ্তর ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর ওপর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একতরফা হস্তক্ষেপের বিরোধিতা প্রকাশ করেছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রোববার পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারকে ওয়াং ই ওয়াশিংটনের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
মাদুরো বর্তমানে নিউইয়র্কের একটি আটক কেন্দ্রে রয়েছেন এবং মাদক পাচারের অভিযোগে আজই আদালতে হাজির হওয়ার কথা। চীনের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, মাদুরোর গ্রেপ্তার বেইজিংয়ের জন্য বড় আঘাত, কারণ ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে চীনের “বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু” হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। মাদুরোর গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে, চীনের বিশেষ প্রতিনিধি কিউ জিয়াওকির সঙ্গে তার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সূচক হিসেবে দেখা যায়।
বেইজিং ২০২৪ সালে ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য ক্রয় করেছে বলে জানায়। এই বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি, চীন মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও ইরানের ঐতিহাসিক পুনর্মিলনকে মধ্যস্থতা করার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাই ল্যাটিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সামরিক পদক্ষেপকে চীন তার ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছে।
ওয়াং ই রোববারের বৈঠকে জোর দিয়ে বলেন, কোনো দেশই বিশ্বব্যাপী বিচারক বা পুলিশ হিসেবে কাজ করা উচিত নয়। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা অনুসারে প্রতিটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এই বক্তব্যকে ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণে একটি সতর্কতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
চীনের এই অবস্থান ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে তার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে। মাদুরোর গ্রেপ্তার এবং তার পরবর্তী আদালত প্রক্রিয়া চীনের জন্য একটি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ, তবে বেইজিং এই পরিস্থিতিতে তার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ভবিষ্যতে, চীন ল্যাটিন আমেরিকায় তার প্রভাব বাড়াতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় সমন্বিত কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনাগুলোর পরবর্তী ধাপ হিসেবে, মাদুরোর আদালত শুনানি এবং ভেনেজুয়েলা-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। চীনের বার্তা স্পষ্ট: আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে কোনো একক শক্তির অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ স্বীকারযোগ্য নয়, এবং সব দেশই সমানভাবে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও আইনের অধীনে কাজ করা উচিত।



