ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রী গিদিয়ন সার মঙ্গলবার হারগেইসা, সোমালিল্যান্ডের রাজধানীতে অবতরণ করে দেশের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহির সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা শক্তিশালী করা, যা ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ডের মধ্যে নতুন সম্পর্কের সূচনা নির্দেশ করে।
সর সরকারি সূত্রের মতে, সার হারগেইসা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সরাসরি প্রেসিডেন্টের অফিসে গিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সুযোগ হয়। দুজন নেতাই স্বল্প সময়ের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা তৈরি করেন।
গত মাসে ইসরায়েল বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতি ১৯৯১ সালে সোমালিল্যান্ডের স্বাধীনতা ঘোষণার পর ৩৪ বছর পরের বিষয়, এবং ইসরায়েলি সরকার এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে স্ব-নির্ধারণের অধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে।
সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়ার সামরিক শাসক সিয়াদ বারেকে উখাদে স্বাধীনতা ঘোষণা করে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ দেশ এখনও এটিকে স্বীকৃত রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবু অঞ্চলটি নিজস্ব সরকার, সেনাবাহিনী ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বজায় রেখে স্বায়ত্তশাসন চালিয়ে যাচ্ছে।
সোমালিয়ার সরকার এই স্বীকৃতিকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে, দাবি করে যে সোমালিল্যান্ডের স্বাধীনতা তার সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন। দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের মতে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে।
ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। চীন, তুরস্ক এবং আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের পদক্ষেপকে সমালোচনা করে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের অবস্থানকে সমর্থন করে এবং সমালোচকদের দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ তুলে।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সারের সফর সম্পর্কে কোনো সরকারি মন্তব্য করেনি, তবে সোমালিল্যান্ডের এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছেন যে এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট এই স্বীকৃতিকে “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করেন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপ সোমালিল্যান্ডের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও স্ব-নির্ধারণের অধিকারকে শক্তিশালী করবে।
সার সফরের পর একটি বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, সোমালিল্যান্ড কয়েক দশক ধরে কার্যকরী রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে আসছে এবং এর স্বীকৃতি নিয়ে যে সমালোচনা করা হচ্ছে তা দ্বিমুখী এবং অযৌক্তিক। তিনি আরও বলেন, স্বীকৃতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলই নেবে।
এই সফর ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ডের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, যা উভয় দেশের নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সুবিধা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত, ইসরায়েলের উন্নত সাইবার ও কৃষি প্রযুক্তি সোমালিল্যান্ডের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, সোমালিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ওপর এই পদক্ষেপের প্রভাবও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ইসরায়েল যদি সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, তবে সোমালিয়া থেকে আরও কঠোর নীতি গ্রহণের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান অঞ্চলের কূটনৈতিক গতি-প্রকৃতিকে প্রভাবিত করবে।
ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ডের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি, বাণিজ্যিক চুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে এই নতুন সম্পর্কের স্বীকৃতি ও সমালোচনার দিক থেকে সমন্বিত প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিত।



