ইউরোপীয় নারী ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ক্লাবগুলো এখন কম দৃশ্যমান। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে উমেয়া উফা নারী কাপ ২০০৩ ও ২০০৪ সালে জয়লাভ করে, মার্তা সহ বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড়দের আকৃষ্ট করে ছিল। তবে ২০২৫ সালে নরওয়ে, সুইডেন বা ডেনমার্কের কোনো দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করা কল্পনাতীত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই মৌসুমে নরওয়ের ভ্যালেরেঙ্গা একমাত্র স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তবে নকআউট রাউন্ডে অগ্রসর হতে পারেনি। ক্লাবের সিইও হারিয়েট রাড উল্লেখ করেন, “নরওয়ের ফুটবল অর্থনীতি ছোট, বড় বিনিয়োগকারী বা শক্তিশালী পুরুষ ক্লাবের সমর্থন কম, ফলে নারী দলগুলো বহু বছর ঘাটতিতে কাজ করে।”
ইউরোপে নারী ফুটবলের পেশাদারীকরণ দ্রুত এগিয়ে যাওয়ায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ক্লাবগুলো আর স্বাধীনভাবে টিকে থাকতে পারছে না। বেশিরভাগ দল পুরুষ দলের ছায়ায় যুক্ত হয়ে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ভ্যালেরেঙ্গা ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকে এই পদক্ষেপ নিয়েছে; যদিও স্থিতিশীলতা এসেছে, তবে ওয়িমেন্স সুপার লিগের মতো উচ্চ বিনিয়োগের স্তরে পৌঁছাতে পারেনি।
ভ্যালেরেঙ্গার স্পোর্টিং ডিরেক্টর স্টেইনার পেডারসেন ২০২২ সালে দলে যোগ দেন। তিনি বলছেন, নরওয়েজিয়ান খেলোয়াড়দের উন্নয়নের জন্য প্রতিভা স্থানান্তর অপরিহার্য, এবং এটি দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক। তবে এই প্রবাহ স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ক্লাবগুলোকে শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কঠিন করে তুলছে।
সুইডিশ ও ড্যানিশ ক্লাবগুলোরও একই ধরণের চ্যালেঞ্জ দেখা যায়। অতীতের উমেয়া ও অন্যান্য দলগুলো উচ্চতর ট্যাকটিক্যাল ও প্রযুক্তিগত মানের জন্য পরিচিত ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক ও অবকাঠামোগত ঘাটতি তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।
ইউরোপীয় নারী ক্লাব ফুটবলের আর্থিক প্রবাহ মূলত ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেনের বড় ক্লাবগুলোতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এই দেশগুলোতে পুরুষ দলের বড় বাজেট নারী দলের জন্যও সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তহবিল সরবরাহ করে, যা স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ক্লাবগুলোতে দেখা যায় না।
ফলস্বরূপ, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার লিগগুলোতে খেলোয়াড়দের বেতন ও প্রশিক্ষণ সুবিধা কমে গেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলকতা হ্রাসের কারণ। তাছাড়া, তরুণ প্রতিভা বিদেশি ক্লাবের দিকে ঝুঁকছে, যেখানে উন্নত সুবিধা ও উচ্চ বেতনের সুযোগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ফেডারেশনগুলো অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তবে তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। ক্লাবগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরের সমর্থন দরকার।
প্রতিযোগিতার স্তরে ফিরে আসতে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ক্লাবগুলোকে নারী ফুটবলের জন্য বিশেষায়িত বাজেট, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মার্কেটিং কৌশল গড়ে তুলতে হবে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
ভ্যালেরেঙ্গার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশে জোর দেওয়া হয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সীমাবদ্ধতা বড় বাধা। ক্লাবের ব্যবস্থাপনা বলছে, “বিনিয়োগের অভাব ছাড়া আমরা ইউরোপীয় শীর্ষে ফিরে আসতে পারব না।”
সারসংক্ষেপে, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার নারী ফুটবল ক্লাবগুলো এখন আর ইউরোপীয় শীর্ষে নয়; বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক শক্তির ঘাটতি তাদের পিছিয়ে রেখেছে। ভবিষ্যতে পুনরুদ্ধার সম্ভব হতে পারে, তবে তা জন্য ব্যাপক আর্থিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।



