বরিসাল জেলার বাবুগঞ্জ‑মুলাদি আসন থেকে পার্লামেন্টের জন্য প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক, সামাজিক মাধ্যমে তহবিলের আবেদন করার পর মাত্র ২৫ ঘন্টার মধ্যে প্রায় বিশ দুই লাখ টাকা সংগ্রহের ঘোষণা দেন। তিনি ফেসবুক লাইভে এই তথ্য প্রকাশ করে তহবিলের উৎস ও ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
ফুয়াদের মতে, দুইটি বিকাশ (bKash) অ্যাকাউন্টে মোট এগারো লক্ষ বিশ হাজার নয়শো ছিয়ানব্বই টাকা, আর একটি নগদ (Nagad) অ্যাকাউন্টে এক লক্ষ পঁচিশ হাজার ছয়শো নয় টাকা জমা হয়েছে। এছাড়া সরাসরি তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নয় লক্ষ পঁয়তাল্লিশ হাজার চারশো সাতানব্বই টাকা পৌঁছেছে। তদুপরি, তার অফিসে আসা এক সাংবাদিকের দান হিসেবে দুই হাজার টাকা তহবিলে যুক্ত হয়েছে।
এই তহবিল সংগ্রহের প্রচারণা রবিবার রাত ৯:৩০ টার দিকে ফুয়াদ তার ফেসবুক পেজে ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে শুরু করেন। ভিডিওতে তিনি দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন এবং সমর্থকদের নির্দিষ্ট নম্বরে টাকা পাঠাতে আহ্বান জানান।
ফুয়াদ লাইভে উল্লেখ করেন যে, তার নাম ব্যবহার করে নকল পেজ ও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বিকাশ ও নগদ নম্বর পরিবর্তন করে প্রতারকরা টাকা চুরি করার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা সত্যিকারের সমর্থন দিতে চান, তারা অবশ্যই তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত নম্বরে টাকা পাঠাবে।
তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রাপ্ত অর্থের সম্পূর্ণ হিসাব ও ব্যয় পরিকল্পনা নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে। এভাবে তিনি সমর্থকদের আস্থা জোরদার করতে চান এবং তহবিলের ব্যবহারকে জনসাধারণের নজরে রাখবেন।
ফুয়াদের তহবিল সংগ্রহের গতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি যেহেতু এবি পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং বারিশাল‑৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী, তাই এই দ্রুত তহবিল সংগ্রহ তার নির্বাচনী প্রচারণার শক্তি ও সমর্থন ভিত্তি নির্দেশ করে।
প্রতিপক্ষের মন্তব্যের জন্য এখনো কোনো প্রকাশনা পাওয়া যায়নি, তবে তহবিলের দ্রুত সঞ্চয় ও স্বচ্ছতা দাবি করা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফুয়াদ তহবিলের ব্যবহারকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করার পরিকল্পনা করেন, তবে নির্দিষ্ট খাতের নাম এখনো প্রকাশ করেননি। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে প্রতিটি ব্যয়ের বিবরণ আলাদা পোস্টের মাধ্যমে জানানো হবে।
এই তহবিল সংগ্রহের প্রচারণা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক শেয়ার ও মন্তব্য পেয়েছে। সমর্থকরা দ্রুত টাকা পাঠিয়ে তার প্রচারণা চালাতে সাহায্য করছেন, আর কিছু ব্যবহারকারী নকল পেজের সতর্কতা নিয়ে মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ফুয়াদের তহবিল সংগ্রহের পরিমাণ দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য, যা নির্বাচনী সময়ে আর্থিক সংগ্রহের নতুন মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার করে তহবিলের দ্রুত সঞ্চয় ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রার্থীরাও গ্রহণ করতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে, ফুয়াদের ২৫ ঘন্টার মধ্যে ২২ লাখ টাকা সংগ্রহের ঘটনা তার নির্বাচনী প্রচারণার আর্থিক ভিত্তি মজবুত করেছে এবং সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের নতুন পথ খুলে দিয়েছে। তিনি তহবিলের স্বচ্ছতা ও ব্যবহার সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা রাজনৈতিক স্বচ্ছতার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যায়।
এই তহবিল সংগ্রহের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ফুয়াদের দল সম্ভবত তহবিলের ব্যবহার পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রচারণা চালাবে এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে এই আর্থিক সম্পদকে কাজে লাগাবে। তহবিলের স্বচ্ছতা বজায় রেখে সমর্থকদের আস্থা জোরদার করা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।



