23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাসরকারি সিদ্ধান্তে ১.৮ লাখ টন ডিজেল ভারতের এনআরএল থেকে আমদানি, ব্যয় ১,৪৬১...

সরকারি সিদ্ধান্তে ১.৮ লাখ টন ডিজেল ভারতের এনআরএল থেকে আমদানি, ব্যয় ১,৪৬১ কোটি টাকার বেশি

বাংলাদেশ সরকার এই বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে মোট ১,৮০,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল ক্রয় করার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই ক্রয়ের মোট মূল্য প্রায় ১,৪৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর বাজেট ও ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে গৃহীত হবে।

অনুমোদন প্রক্রিয়া মঙ্গলবার সচিবালয়ের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে সম্পন্ন হয়। বৈঠকের সূত্র অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এনআরএল থেকে ডিজেল আমদানি প্রস্তাব উপস্থাপন করে, পর্যালোচনার পর উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি তা অনুমোদন করে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সরবরাহিত ডিজেল ০.০০৫ শতাংশ সালফারযুক্ত হবে, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মোট ক্রয়মূল্য ১১ কোটি ৯১ লাখ ৩৩ হাজার ২১৬ মার্কিন ডলারে নির্ধারিত, যেখানে প্রতি ব্যারেল ডিজেলের প্রিমিয়াম ৫.৫০ ডলার এবং রেফারেন্স মূল্য ৮৩.২২ ডলার নির্ধারিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি ২০১৬ সাল থেকে কার্যকর, যার অধীনে পূর্বে রেলগাড়ি মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করা হতো। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ শুরু হওয়ায় লজিস্টিক খরচ ও সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হল দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। বিদ্যমান চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অতিরিক্ত কোনো নতুন শর্ত যোগ করা হয়নি, যা বাজারে অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান উল্লেখ করেন, এই ক্রয় পুরোনো চুক্তির অংশ এবং নতুন কোনো নীতি পরিবর্তন নয়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিজেল আমদানির এই বড় পরিমাণ দেশের জ্বালানি মজুদকে শক্তিশালী করবে এবং তেল দামের ওঠানামা থেকে রক্ষা পেতে সহায়তা করবে। এছাড়া, উচ্চ মানের কম সালফারযুক্ত ডিজেল পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে সুবিধাজনক, যা গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সহায়তা করবে।

তবে, আন্তর্জাতিক তেল মূল্যের অস্থিরতা এবং মুদ্রা বিনিময় হারের পরিবর্তন ক্রয়ের মোট খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। বিপিসি যদি ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করে, তবে ঋণসেবা খরচ ও সুদের হার বৃদ্ধির ঝুঁকি বিবেচনা করতে হবে। এছাড়া, পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, এই চুক্তি দেশের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ জ্বালানি সহযোগিতার মডেলকে শক্তিশালী করবে। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে, সরকার বাজারে অপ্রত্যাশিত শক শোষণ করতে পারবে এবং জ্বালানি মূল্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারবে।

সারসংক্ষেপে, ১.৮ লাখ টন ডিজেল আমদানি পরিকল্পনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত মান এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও আর্থিক ব্যয়ের দিকে সতর্ক দৃষ্টিপাত প্রয়োজন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments