সিলেট টাইটান্সের ব্যাটিং কোচ এবং প্রাক্তন বাংলাদেশ ওপেনার ইমরুল কায়েস অস্ট্রেলিয়ার ক্যাম্বারওয়েল ম্যাগপাইজ ক্লাবের কোচিং দায়িত্বে আছেন। অস্ট্রেলিয়ায় কাজের সময় তিনি মেলবোর্নে বাংলাদেশি লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার পারফরম্যান্স নিয়ে আশাব্যঞ্জক মন্তব্য করেন।
ইমরুলের মতে, রিশাদের বর্তমান বিবিএল (বিগ ব্যাশ লিগ) মৌসুমে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে আটটি উইকেট নেওয়া এবং ৭.৮০ ইকোনমি রেট বজায় রাখার ফলে দলটি সাতটি ম্যাচের পর শীর্ষে রয়েছে। এই ফলাফল রিশাদের আত্মবিশ্বাসকে তীব্রভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তিনি বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশ স্পিন দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
কয়েকটি ম্যাচের পর রিশাদকে “এক্স-ফ্যাক্টর” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ইমরুল জানান, ভারতীয় পিচে যদি ঘূর্ণায়মান গড়ি থাকে, রিশাদের স্পিন দক্ষতা দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, রিশাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফিরে আসা দলকে নতুন শক্তি যোগাবে।
ইমরুল কায়েস অস্ট্রেলিয়ার ক্যাম্বারওয়েল ম্যাগপাইজের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজের পাশাপাশি প্রথম-গ্রেড ক্রিকেটেও অংশ নিচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যে কোচিং লেভেল ১ সম্পন্ন করেছেন এবং ভবিষ্যতে লেভেল ২ ও ৩ অর্জনের পরিকল্পনা করছেন। এই লক্ষ্য তার অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
মেলবোর্নে রিশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ইমরুল উল্লেখ করেন, রিশাদ অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতিকে পুরোপুরি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, এখানে ক্রিকেটের বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা কম এবং পরিবেশটি বন্ধুত্বপূর্ণ। রিশাদের জন্য এই অভিজ্ঞতা গর্বের বিষয়, বিশেষ করে তিনি বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছেন।
হোবার্ট হারিকেন্সের শীর্ষে থাকা অবস্থায় রিশাদের পারফরম্যান্স দলকে ধারাবাহিক জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে। তার আটটি উইকেটের মধ্যে বেশিরভাগই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসেছে, যা দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইমরুলের মতে, রিশাদের এই সাফল্য বাংলাদেশি ভক্তদের মধ্যে গর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে।
ইমরুল কায়েসের কোচিং দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সিস্টেমে নিজেকে আরও উন্নত করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, লেভেল ২ ও ৩ কোচিং সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করলে তিনি দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য আরও কার্যকর প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম হবেন। এই পরিকল্পনা তার দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
রিশাদ হোসেনের বিবিএল পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায়, তিনি ৭.৮০ ইকোনমি রেট বজায় রেখে আটটি উইকেট নিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান তার স্পিন দক্ষতার সূচক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। ইমরুলের মন্তব্যে রিশাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফিরে আসা দলকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।
ইমরুল কায়েসের মতে, রিশাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফিরে আসা বাংলাদেশ স্পিন দলে নতুন শক্তি যোগাবে। তিনি উল্লেখ করেন, রিশাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দলটি টুর্নামেন্টে ভাল ফলাফল অর্জন করতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি রিশাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দলের কৌশলগত প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যাম্বারওয়েল ম্যাগপাইজে কোচিং কাজের পাশাপাশি ইমরুল প্রথম-গ্রেড ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করছেন, যা তাকে স্থানীয় ক্রিকেট পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করে তুলেছে। তিনি বলছেন, এই অভিজ্ঞতা তাকে কোচিং দক্ষতা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশকে সমর্থন করতে সহায়তা করবে।
ইমরুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি অস্ট্রেলিয়ার কোচিং কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে নিজের দক্ষতা উন্নত করবেন। লেভেল ২ ও ৩ কোচিং কোর্স সম্পন্ন করার পর তিনি বাংলাদেশি তরুণদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে চান। এই দৃষ্টিভঙ্গি তার কোচিং ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
সর্বোপরি, রিশাদ হোসেনের বিবিএল পারফরম্যান্স এবং ইমরুল কায়েসের প্রশংসা বাংলাদেশ স্পিন দলে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। রিশাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফিরে আসা এবং ইমরুলের অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে গভীর অংশগ্রহণ উভয়ই দেশের ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।



