জাতীয় যন্ত্রপাতি পরিচয় নিবন্ধন (NEIR) ব্যবস্থা ১৬ ডিসেম্বর সরকারীভাবে চালু করা হয়েছে। এই সিস্টেমের লক্ষ্য হল অননুমোদিত মোবাইল ফোনকে নেটওয়ার্কে প্রবেশ থেকে বাধা দেওয়া, যাতে অবৈধ আমদানি কমে এবং স্থানীয় উৎপাদনকে সমর্থন করা যায়।
NEIR‑এর মূল কাজ হল অবৈধ হ্যান্ডসেটের প্রবেশ বন্ধ করা, তবে চালুর দিনেই সিস্টেমের প্রধান ফিচারটি সক্রিয় করা হয়নি। তৃতীয় সপ্তাহের মার্চ পর্যন্ত কোনো ফোন নেটওয়ার্কে ব্লক হবে না, ফলে প্রথম পর্যায়ে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে ধরা হবে।
এই আংশিক চালু হওয়া পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সপ্তাহে ছোট মোবাইল বিক্রেতাদের প্রতিবাদে ভূমিকা রাখছে। শিল্পের অনুমান অনুযায়ী, গ্রে মার্কেট এখন মোট হ্যান্ডসেট বিক্রয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ দখল করে, এবং হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসা এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল।
NEIR প্রকল্পটি প্রথমবারের মতো চার বছর আগে চালু করা হয়েছিল, তখন ট্যাক্সদাতার তহবিল থেকে ২৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। তবে যথেষ্ট কার্যকরী না হওয়ায় সিস্টেমটি অচল অবস্থায় রাখা হয়।
২০২১ সালে একই ধারণা পুনরায় উপস্থাপন করা হয়, কিন্তু নেটওয়ার্কে লক্ষ লক্ষ অননুমোদিত ফোন সক্রিয় পাওয়া যাওয়ায় পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। অবৈধ ফোনগুলোকে ব্লক করলে জনমত বিরোধের ঝুঁকি দেখা দেয়, তাই সরকার সেদিনের সিদ্ধান্তটি পিছিয়ে দেয়।
এবারের সময়সূচি অনুযায়ী, মার্চ ২৬ তারিখ থেকে পূর্ণ পর্যায়ে সিস্টেম চালু হবে। এই তারিখের পর তিন মাসের মধ্যে বৈধ আমদানি নথি না থাকা ফোনগুলোকে টেলিকম নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) অক্টোবরের শেষ দিকে NEIR পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দেয়। প্রধান উদ্দেশ্য হল অবৈধ আমদানি কমানো, চুরি হ্রাস, অরেজিস্টার্ড ডিভাইসের ব্যবহার বন্ধ এবং দেশীয় উৎপাদনকারীদের ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা।
সিস্টেমটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য মোবাইল ফোন সংক্রান্ত অপরাধের তদন্তে সহায়ক সরঞ্জাম হিসেবেও উপস্থাপিত হয়েছে। বৈধ ডকুমেন্ট ছাড়া প্রবেশ করা ডিভাইসগুলোকে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং গ্রে মার্কেটের আয়তন কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি খাতে এই পদক্ষেপের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য হতে পারে। স্থানীয় নির্মাতারা ন্যায্য বাজার পাবে, ভোক্তারা নিরাপদ ও নিবন্ধিত ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবে, এবং সরকারী রাজস্বেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে পূর্ণ কার্যকরী হওয়া পর্যন্ত গ্রে মার্কেটের চাপ এবং ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের উদ্বেগ অব্যাহত থাকবে।
সারসংক্ষেপে, NEIR এর আনুষ্ঠানিক সূচনা ১৬ ডিসেম্বর হলেও বাস্তবিক বাধা আরোপের কাজ মার্চের শেষের দিকে শুরু হবে। এই ধাপটি অবৈধ ফোনের প্রবাহ কমিয়ে দেশীয় টেলিকম ইকোসিস্টেমকে সুশৃঙ্খল করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



