স্থানীয় সময় গত শনিবার ভোরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলে একটি আকাশ ও স্থল অভিযান চালিয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে। একই সময়ে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা পৃথ্বীরাজ চবন সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলে ঘটিত ঘটনাটি যদি ভারতের সাথেও ঘটে, তবে ট্রাম্প কি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অপহরণ করতে পারেন? এই মন্তব্য দ্রুতই অনলাইন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
চবনের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে, ভারতের রপ্তানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অর্জিত মুনাফা হ্রাস পাবে এবং তাই বিকল্প বাজার অনুসন্ধান করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দিকের প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি ট্রাম্প ভেনেজুয়েলে যা করেছেন, তা ভারতের সাথেও করা হয়, তবে ফলাফল কী হতে পারে।
চবনের মন্তব্যের ওপর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বহু ব্যবহারকারী তার বক্তব্যকে অযৌক্তিক, অশিক্ষিত এবং মূর্খ বলে সমালোচনা করেন। বিশেষ করে একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের ক্ষেত্রে এমন মন্তব্যকে হাস্যকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে, জম্মু-কাশ্মিরের প্রাক্তন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা এসপি বৈদ চবনের মন্তব্যকে সমগ্র দেশের জন্য অপমানজনক বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এমন রকমের অনুমানমূলক মন্তব্য অনুপযুক্ত।
চবনের মন্তব্যের পেছনে ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থের পরিবর্তন সম্পর্কিত একটি বৃহত্তর আলোচনার ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আয় কমে যাওয়ায়, ভারতকে নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে হবে এবং এই দিকের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এই বিবৃতি দেশের বাণিজ্য নীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেয়।
মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেসের অপহরণ সংক্রান্ত ঘটনা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রতিবেদন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে, ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নিন্দা পেয়েছে। একই সঙ্গে, ভারতের রাজনৈতিক পরিবেশে চবনের মন্তব্য নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যেখানে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক নীতি নিয়ে মতবিনিময় করছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, চবনের মন্তব্য যদিও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে, তবু এটি দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রতি জনসাধারণের উদ্বেগকে প্রকাশ করে। তিনি যে প্রশ্ন তুলেছেন, তা ভবিষ্যতে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
এই ঘটনার পর, ভারতের সরকারী দফতর থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সরকার সাধারণত সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে এবং আন্তর্জাতিক ঘটনার ওপর অতিরিক্ত অনুমান এড়িয়ে চলে।
সামাজিক মাধ্যমে চবনের পোস্টের ওপর বিতর্ক অব্যাহত থাকায়, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্যের প্রভাব ও তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে আলোচনা করছেন। বিশেষ করে, পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে ভারতের কূটনৈতিক নীতি ও নিরাপত্তা কৌশল কীভাবে গঠন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সারসংক্ষেপে, ভেনেজুয়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী অপহৃত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনার বিষয়। একই সময়ে, ভারতের বিরোধী কংগ্রেসের নেতা পৃথ্বীরাজ চবন এই ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অপহরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যা সামাজিক মাধ্যমে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে এবং দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক নীতি নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করে।



