ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভরা আজ ১৭ জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে হাদি হত্যার মামলায় আনুষ্ঠানিক চার্জ শিট দাখিল করেছে। প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদকে উল্লেখ করা হয়েছে, যাকে তদন্তে নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) এর অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে ফয়সাল ছাত্রলীগের অবৈধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং হাদি হত্যাটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে ঘটেছে।
দাখিলকৃত চার্জ শিটে মোট ১৭ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবশিষ্ট পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতার কার্যক্রম চলমান।
শফিকুল ইসলাম আরও জানিয়েছেন, তদন্তের সময় পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে ফয়সালকে প্রধান অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে মামলাটি এগিয়ে নেওয়া হবে।
শারিফ ওসমান হাদি, যিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন, তিনি ঢাকা-৮ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং গত বছর জুলাইয়ের উত্থানে যুব নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন।
হাদি ১২ ডিসেম্বর পল্টন এলাকায় গুলি হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
হাদের গুলি হওয়ার পরপরই ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন মডেল থানা-তে ১৪ ডিসেম্বর ফয়সাল এবং অজানা কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ‘প্রয়াসী হত্যাকাণ্ড’ রেজিস্টার করেন।
পরবর্তীতে প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি ‘হত্যা’ হিসেবে রূপান্তরিত হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব ডিবি বিভাগে হস্তান্তর করা হয়।
ডিবি বিভাগে স্থানান্তরের পর তদন্ত দল দ্রুতই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার কাজ চালিয়ে যায়। ইতিমধ্যে ১২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাদির মৃত্যু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও গোষ্ঠীগত সংঘর্ষের ফলে ঘটেছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
অধিক তদন্তের পর আদালতে মামলার অগ্রগতি নির্ধারণের জন্য শীঘ্রই শুনানি নির্ধারিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, সব প্রমাণ যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, পুলিশ ও বিচার বিভাগ উভয়ই রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।



