মুস্তাফিজুর রহমান বর্তমানে চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে রাঙপুর রাইডার্সের হয়ে খেলছেন। তিনি ৪ জানুয়ারি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে পাঁচ রানের পার্থক্যে দলকে জয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সময়ে, ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি।
বিবিসি (বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইনডিয়া) রায় অনুযায়ী কেএকেআরকে মুস্তাফিজুরকে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ভারত ভ্রমণ করে টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বাতিল করে। তবে মুস্তাফিজুরের মনোভাব এই বিষয়গুলোতে প্রভাব ফেলেনি।
সিলেটের ম্যাচে তিনি ১৮তম ওভারে মাত্র দুই রানই দিলেন, যা ডেথ ওভারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য হয়। শেষ ওভারে তিনি শামিম হোসেনকে আউট করে দলকে দশ রান রক্ষা করতে সাহায্য করেন। এই পারফরম্যান্সের ফলে রাইডার্সের জয় নিশ্চিত হয় এবং মুস্তাফিজুরের বোলিং দক্ষতা আবারও প্রকাশ পায়।
মুস্তাফিজুরের আইপিএল শপিংয়ে তিনি ৯.২ কোটি রুপি মূল্যে সর্বোচ্চ দামের খেলোয়াড় হিসেবে বিক্রি হয়েছিলেন, যা বাংলাদেশের খেলোয়াড়ের জন্য ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ। স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার ফলে তিনি আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তবু তিনি বলছেন, অফ-ফিল্ডের আলোচনায় তিনি কোনো প্রভাবিত হননি।
রাইডার্সের সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের মতে, মুস্তাফিজুর সম্পূর্ণ শান্ত এবং কোনো বাইরের কথায় উদ্বিগ্ন নন। তিনি রাইডার্সের জন্য খেলায় মনোযোগী এবং পরবর্তী যে কোনো দায়িত্বে তার মনোযোগ একই থাকবে। আশরাফুল আরও যোগ করেন, মুস্তাফিজুরের মানসিকতা ও দক্ষতা অন্যদের থেকে আলাদা।
আশরাফুল বর্তমানে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বেও আছেন, তাই তিনি মুস্তাফিজুরের সঙ্গে জাতীয় স্তরে কাজ করার সুযোগ পাবেন। কোচের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রথম দুই ম্যাচে মুস্তাফিজুরের পারফরম্যান্স কিছুটা কম ছিল, তবে শেষ ম্যাচে তার পারফরম্যান্স দলকে জয় নিশ্চিত করেছে।
মুস্তাফিজুরের এই পারফরম্যান্সের পর, রাইডার্সের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি তীব্র হয়েছে। দলটি চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যেখানে মুস্তাফিজুরের বোলিং আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোচরা বলছেন, দলটি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টুর্নামেন্টে শীর্ষে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখবে।
বিএসসি (বোর্ড অফ ক্রিকেট) এবং আইসিসি (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল) সম্পর্কিত কোনো মন্তব্য না থাকলেও, মুস্তাফিজুরের পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার মূল্য প্রমাণ করে। তিনি আইপিএল বাদে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেন কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মুস্তাফিজুরের বোলিং স্টাইল এবং ডেথ ওভারের দক্ষতা তাকে বাংলাদেশের দ্রুতগতির পিচে অপরিহার্য করে তুলেছে। সিলেটের ম্যাচে তার ১৮তম ওভারে মাত্র দুই রানই দেওয়া, তার নিয়ন্ত্রণের নিখুঁত উদাহরণ। শেষ ওভারে শামিম হোসেনকে আউট করে দলকে রক্ষা করা, তার চাপের মুহূর্তে পারফরম্যান্সের শক্তি দেখায়।
ক্লাবের ব্যবস্থাপনা মুস্তাফিজুরের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট এবং তাকে দলের মূল স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করে। তিনি ভবিষ্যতে রাইডার্সের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন, বিশেষ করে প্লে-অফের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময়। কোচিং স্টাফের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, মুস্তাফিজুরের মনোভাব এবং শৃঙ্খলা দলকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।
মুস্তাফিজুরের আইপিএল বাদে আর্থিক ক্ষতি সত্ত্বেও, তিনি রাইডার্সের জন্য তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পারফরম্যান্স দলকে শুধু জয়ই এনে দেয়নি, বরং তার আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোচ আশরাফুলের মতে, মুস্তাফিজুরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তিনি যে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে প্রস্তুত।
সিলেটের এই জয় রাইডার্সের টুর্নামেন্টে অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং মুস্তাফিজুরের পারফরম্যান্সকে আরও উজ্জ্বল করেছে। দলটি এখন চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত, যেখানে মুস্তাফিজুরের বোলিং আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পুরো টুর্নামেন্টে তার অবদান কীভাবে থাকবে, তা সময়ই বলবে।



