গোয়ালখাতা, গাইবান্ধা—৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হল রুমে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) সদস্যদের একত্রে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা, যিনি সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন।
সভা দুপুরে শুরু হয়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলেছে। অনুষ্ঠানটি উপ-উপজেলা আনসার‑ভিডিপি কর্মসূচি সমন্বয়কারী শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে গাইবান্ধা জেলা আনসার‑ভিডিপি কমান্ড্যান্ট আবু সোলায়মান বি.ভি.এম.এস উপস্থিত ছিলেন এবং সমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
সভায় গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে আনসার ও ভিডিপি সদস্য, পাশাপাশি প্রশিক্ষিকা কুদ্দুস ইয়াফি অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সদস্যরা তাদের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, সম্মুখীন সমস্যার ধরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন যে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়া আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মূল দায়িত্ব। এধরনের কাজের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
সভায় সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সময়মতো ভাতা প্রদান এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রমের সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে কর্মক্ষমতা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়।
আনসার‑ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট আবু সোলায়মান বি.ভি.এম.এস বলেন, সরকার এই বাহিনীগুলোকে সুসংগঠিত ও কার্যকর করে তোলার জন্য নীতি ও সম্পদ সরবরাহে অগ্রসর। তিনি সদস্যদের সম্মুখীন সমস্যাগুলোকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দেন।
কমান্ড্যান্টের বক্তব্য অনুসারে, ভবিষ্যতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ সেশন, ভাতা প্রদানের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং সামাজিক কল্যাণ প্রকল্পের সমন্বয় করা হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সদস্যদের মনোবল বাড়িয়ে স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা লক্ষ্য।
সভার সমাপ্তিতে উপস্থিত সকল সদস্যকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে কাজ করলে গ্রামাঞ্চলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, এটাই সমাবেশের মূল বার্তা।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর কার্যকরী ভূমিকা স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
এ ধরনের সমাবেশের মাধ্যমে সরকারী নীতি ও স্থানীয় বাস্তবতার মধ্যে সেতু তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প ও নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সমন্বয় সাধনে সহায়তা করবে। আনসার‑ভিডিপি সদস্যদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো যদি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়, তবে স্থানীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি প্রত্যাশিত।
সর্বোপরি, গোবিন্দগঞ্জে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভা আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের কাজের পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও আর্থিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমাবেশের ধারাবাহিকতা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে।



