গুজরাট জায়ান্টসের নতুন ক্যাপ্টেন অ্যাশ গার্ডনার ২০২৬ উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউপিএল) ক্যাম্পেইনের আগে দলের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে কথা বললেন। গার্ডনার দলটির প্রতিষ্ঠা থেকেই খেলছেন এবং এই মৌসুমে তিনি প্রথমবারের মতো অধিনায়কত্ব গ্রহণ করেছেন। তার নেতৃত্বে দলটি গত বছর শেষের দিকে কিছু সাফল্য দেখিয়েছিল, তবে নতুন সিজনে তিনি ছোট ছোট বিষয়গুলো সঠিকভাবে পালন করার ওপর জোর দিয়েছেন।
২০২৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গুজরাট জায়ান্টসের জন্য একটি স্মরণীয় রাত ছিল। মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে তারা ২০১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ৫১ ওভারে ২০১/৫ স্কোর তৈরি করেছিল। গার্ডনার ৩৭ বলের মধ্যে ৭৯ রান না-আউট করে দলের শীর্ষ স্কোরার ভূমিকা পালন করেন। তবে রিচা ঘোষের ২৭ বলের ৬৪ রান ওয়াইডারসের জন্য চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের পর, রায়াল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) শেষ ছয় ওভারে ৭৯ রান রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়।
আরসিবি ২০১ রানের লক্ষ্যকে ৯ বোলের আগে অতিক্রম করে ডব্লিউপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ সফল চেজ সম্পন্ন করে। গুজরাট জায়ান্টসের জন্য এই পরাজয় একটি বড় ধাক্কা ছিল, কারণ তারা শুরুর দিকে জয়ী অবস্থানে ছিল। গত সিজনে প্রথম চারটি ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেয়েছিল এবং দলটি ফিল্ডিংয়ের ত্রুটি, বিদেশি খেলোয়াড়ের অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং অভিজ্ঞতার অভাবের কারণে সমস্যায় পড়ে।
তবু শেষের দিকে দলটি কিছু পরিবর্তন দেখাতে শুরু করে। ভারতীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে কাশ্বি গৌতম ১১টি উইকেট এবং তানুজা কানওয়ার ৮টি উইকেট নিয়ে দলের পিচে প্রভাব ফেলেছিলেন। তাদের নেতৃত্বে গুজরাট জায়ান্টস তিন ম্যাচের ধারাবাহিক জয় অর্জন করে প্রথমবার প্লে-অফে পৌঁছায়। এই সাফল্য দলকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল, যদিও পুরো সিজন জুড়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন ছিল।
নতুন সিজনের প্রস্তুতি চলাকালীন গার্ডনার জোর দিয়ে বললেন, “এই সিজনে ছোট ছোট বিষয়গুলো ঠিকভাবে করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা বজায় রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য।” তিনি অতীতের জয়ী মুহূর্তগুলোকে উল্লেখ করে বললেন, “গত বছর আমরা অনেক জয়ী অবস্থানে ছিলাম, কিছু জিতেছি, কিছু হারিয়েছি।” গার্ডনারের মতে, ধারাবাহিকতা এবং মৌলিক দক্ষতার উন্নতি দলকে আরও শক্তিশালী করবে।
গুজরাট জায়ান্টসের কোচিং স্টাফও গার্ডনারের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে দলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে কাজ করছে। প্রশিক্ষণ শিবিরে ফিল্ডিং drills, ব্যাটিং টেকনিক এবং স্পিন বোলিংয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, দলটি বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে চায়, যাতে ভারতীয় কোরের পারফরম্যান্সে সমর্থন যোগায়।
ডব্লিউপিএল ২০২৬ এর সূচি অনুযায়ী গুজরাট জায়ান্টসের প্রথম ম্যাচটি মার্চের মাঝামাঝি নির্ধারিত হয়েছে। গার্ডনার উল্লেখ করেছেন, “প্রথম ম্যাচে আমরা শুরুর থেকেই ভাল পারফরম্যান্স দেখাতে চাই, যাতে সিজনের বাকি অংশে আত্মবিশ্বাস বজায় থাকে।” তিনি আরও যোগ করেন, “দলটি এখন পর্যন্ত যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা ব্যবহার করে আমরা প্রতিটি ওভারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারব।”
গুজরাট জায়ান্টসের ভক্তরা এই নতুন সিজনে দলকে সমর্থন করার জন্য উন্মুখ, বিশেষ করে গার্ডনারের নেতৃত্বে দলটি কীভাবে উন্নতি করবে তা দেখতে। গার্ডনারের আশাবাদী মন্তব্য এবং দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে, গুজরাট জায়ান্টসের ২০২৬ সিজনটি আগের চেয়ে বেশি প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে। দলটি এখনো পুরো সিজনের পরিকল্পনা শেষ করেনি, তবে ছোট ছোট বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিয়ে বড় লক্ষ্য অর্জনের পথে অগ্রসর হচ্ছে।



