শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড মঙ্গলবার টি২০ আন্তর্জাতিক সিরিজে পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে দল গঠন করে এবং টেস্ট ক্যাপ্টেন ধনঞ্জয় দে সিলভাকে পুনরায় স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সিরিজটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনটি ম্যাচের সবগুলোই দম্বুল্লা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
ধনঞ্জয় দে সিলভা, যিনি টেস্ট ফরম্যাটে দলের নেতৃত্বে ছিলেন, শেষ টি২০ ম্যাচটি জুন ২০২৪-এ নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন। তার পর থেকে তিনি টি২০ ফরম্যাটে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণ করেননি। তবে বিশ্বকাপের আগে তার অভিজ্ঞতা ও বহুমুখিতা কাজে লাগাতে বোর্ড তাকে আবার স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
শ্রীলঙ্কার টি২০ স্কোয়াডে মোট ১৮ জন খেলোয়াড়ের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। দাসুন শানাকা দলকে ক্যাপ্টেন হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন। তার পাশে পাথুম নিসান্কা, কামিল মিশারা, কুসাল মেন্ডিস, কুসাল পেরেরা, ধনঞ্জয় দে সিলভা, চারিথ আসালাঙ্কা, জানিথ লিয়ানাগে, কামিন্দু মেন্ডিস, ওয়ানিন্দু হসারাঙ্গা, দুনিথ ওয়েলালাগে, মাহিশ থিকশানা, দুশান হেমান্থা, ট্রাভিন মেথু, দুশমন্তা চামীরা, মথীশা পাথিরানা, নুয়ান থুশারা এবং ইশান মালিঙ্গা স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত।
দাম্বুল্লায় অনুষ্ঠিত এই সিরিজের সূচি নির্ধারিত হয়েছে: প্রথম টি২০ ম্যাচটি বুধবারে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা হবে, দ্বিতীয়টি শুক্রবারে এবং তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি রবিবারে অনুষ্ঠিত হবে। তিনটি ম্যাচই একই ভেন্যুতে হবে, ফলে খেলোয়াড়দের জন্য মাঠের শর্তে অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে।
শ্রীলঙ্কা এই সিরিজের মাধ্যমে টি২০ বিশ্বকাপের আগে দলকে সমন্বিত করতে চায়, যা আগামী মাসে ভারতসহ সহ-আয়োজক দেশগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে এই ধরনের ঘরোয়া সিরিজগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে ফর্ম যাচাই করতে পারে।
দাসুন শানাকা ক্যাপ্টেন হিসেবে দলের কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণের পাশাপাশি মাঠে নেতৃত্বের দায়িত্বও পালন করবেন। তিনি পূর্বে টি২০ ফরম্যাটে দলের সঙ্গে বেশ কিছু সফল পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এবং তার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা টিমের আক্রমণাত্মক শক্তি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ধনঞ্জয় দে সিলভার পুনরায় নির্বাচনের পেছনে বোর্ডের লক্ষ্য হল তার টেস্ট ফরম্যাটের অভিজ্ঞতা টি২০-তে রূপান্তর করা, যাতে মাঝারি ও শেষ ওভারগুলোতে স্থিতিশীলতা আসে। যদিও তিনি টি২০-তে দীর্ঘদিন না খেললেও, তার অল-রাউন্ডার দক্ষতা ও ফিল্ডিং ক্ষমতা দলকে সমন্বিত করতে সহায়তা করবে।
সিরিজের অন্যান্য মুখ্য খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে ওয়ানিন্দু হসারাঙ্গার স্পিন, কামিন্দু মেন্ডিসের মিড-অফসেট বোলিং এবং কুসাল মেন্ডিসের ব্যাটিং ফ্লেয়ার। এই সমন্বয় শ্রীলঙ্কাকে টি২০ বিশ্বকাপের আগে শক্তিশালী ব্যাটিং ও বোলিং ইউনিট গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এই ঘরোয়া সিরিজটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যেখানে দলটি টি২০ বিশ্বকাপের জন্য শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি যখন দম্বুল্লা গিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে তিনটি ম্যাচের মুখোমুখি হবে, তখনই দেখা যাবে কোন খেলোয়াড়রা ফর্মে আছে এবং কেমন কৌশলগত পরিবর্তন করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজের ফলাফল শ্রীলঙ্কার টি২০ পরিকল্পনার মূল সূচক হবে, এবং ধনঞ্জয় দে সিলভার পারফরম্যান্স বিশেষভাবে নজরে থাকবে। দলটি যখন টি২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখবে, তখন এই ঘরোয়া ম্যাচগুলোতে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও সমন্বয়ই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।



