চট্টগ্রাম নগরীর সার্কিট হাউসে মঙ্গলবার সকালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট‑২০২৬ প্রস্তুতির অধীনে আইনশৃঙ্খলা সেলের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উল্লেখ করেন, জুলাই ২০২৩‑এর অভ্যুত্থানে থানা থেকে চুরি হওয়া মোট অস্ত্রের ১৫ শতাংশ এবং গুলির ৩০ শতাংশ এখনো উদ্ধার হয়নি।
বৈঠকে তিনি জানিয়ে দেন, লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলির পুনরুদ্ধার কাজ এখনো চলমান এবং তা দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ অভিযান চালু রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরণের সামগ্রী সময়মতো না পাওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে জনগণের আস্থা ক্ষয় করতে পারে।
সানাউল্লাহের মতে, লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনও অদৃশ্য, যা নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই সামগ্রী দ্রুত পুনরুদ্ধার করা যায়, তবে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।
বৈঠকে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লুট হওয়া সামগ্রীর সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনুসন্ধান চালু রয়েছে। তারা বলছেন, উদ্ধার অভিযানটি গোপনীয়তা বজায় রেখে দ্রুততর ফলাফল আনার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কোনো পক্ষপাতিত্ব না করে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা বজায় রেখে কাজ করা হলে নির্বাচনের উৎসবের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অন্যান্য সরকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মেরুদণ্ড।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দলও একই রকমের মন্তব্য করে, তারা দাবি করে যে নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো গোষ্ঠী যদি অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে অপকর্ম করে, তবে তা কঠোরভাবে দমন করা উচিত। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
অবশ্যই, লুট হওয়া সামগ্রীর পুনরুদ্ধার না হলে নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। সানাউল্লাহের মতে, এই ধরণের অস্ত্রের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠুতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বৈঠকের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, উদ্ধার কাজের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে নির্বাচন কমিশনের উচ্চতর পর্যায়ে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল সদস্যকে দৃঢ় ও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো অননুমোদিত কার্যকলাপের সুযোগ না থাকে।
নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণার পর, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থা দ্রুত সমন্বয় করে লুট হওয়া সামগ্রী অনুসন্ধান ও পুনরুদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত দল গঠন করেছে। তারা জানিয়েছে, অনুসন্ধান কাজের সময় কোনো নাগরিকের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করা হবে।
অবশেষে, সানাউল্লাহের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য হল, নির্বাচনের পূর্বে সব ধরণের অবৈধ অস্ত্র ও গুলির পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা, যাতে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠা পায় এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো মজবুত থাকে।



