অন্তর্বর্তী সরকার থাইল্যান্ড থেকে সয়াবিন তেল আমদানি করে দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহের ঘাটতি পূরণে পদক্ষেপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়।
বৈঠকে অনুমোদিত চূড়ান্ত পরিমাণ ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার, যা প্রায় ১৩.৫৭৫ মিলিয়ন লিটার সমান। এই লেনদেনের মোট ব্যয় ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার হিসাব করা হয়েছে।
প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের গড় মূল্য ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে। এই মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দেশের তেল বাজারে অতিরিক্ত চাপ না পড়ার লক্ষ্যে নির্ধারিত।
সরকারের সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে থাইল্যান্ডের প্রাইম ক্রপ ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেড থেকে তেল সংগ্রহ করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরবরাহকারী এবং পূর্বে একই ধরনের চুক্তিতে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সয়াবিন তেলের পাশাপাশি বৈঠকে মসুর ডাল, সার এবং জ্বালানি তেল আমদানি সংক্রান্ত পৃথক প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়। এই পণ্যগুলো দেশের কৃষি ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে জরুরি হিসেবে বিবেচিত, এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ভোজ্যতেল বাজারে সরবরাহের ঘাটতি কমিয়ে মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখা প্রধান লক্ষ্য। বৃহৎ পরিমাণে তেল আমদানি করলে স্থানীয় তেল উৎপাদনকারীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়বে, তবে একই সঙ্গে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের ঝুঁকি কমে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই লেনদেনের মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা ব্যয় বাড়বে, তবে তেলের অভাবজনিত মূল্যস্ফীতি রোধে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
গ্লোবাল সয়াবিন তেল মূল্যের ওঠানামা এই ধরনের বড় পরিমাণের আমদানি পরিকল্পনায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে, তাই সরকার অতিরিক্ত আর্থিক রিজার্ভের মাধ্যমে এই ঝুঁকি মোকাবেলা করতে পারে।
লজিস্টিক দিক থেকে থাইল্যান্ড থেকে সরাসরি শিপমেন্টের সুবিধা রয়েছে; তবে বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোর সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি। সময়মত ডেলিভারি না হলে বাজারে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা মূল্যের অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
ভবিষ্যতে সরকার তেলের পাশাপাশি অন্যান্য কৃষি পণ্যের আমদানি পরিকল্পনা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন দেশীয় উৎপাদন পর্যাপ্ত না হয়। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার ওপর জোর দিয়ে গৃহীত এই নীতি বাজারে আস্থা জোগাবে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত দেবে।
সারসংক্ষেপে, থাইল্যান্ড থেকে সয়াবিন তেল ক্রয় এবং অন্যান্য জরুরি পণ্যের আমদানি দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, সঠিক মূল্য নির্ধারণ এবং সময়মত ডেলিভারি নিশ্চিত করা হলে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমে যাবে।



