ঢাকা, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ – মোবাইল ব্যবসা সংস্থা (এমআইওবি) প্রকাশ করেছে যে দেশের মোবাইল ফোন বিক্রেতা গোষ্ঠীর মধ্যে কমপক্ষে দেড় হাজার ব্যবসায়ী বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত। এই তথ্য সংস্থার সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফলাফল, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে।
এমআইওবির মতে, এই ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই দেশের বিভিন্ন শহরে সক্রিয় এবং মোবাইল ডিভাইসের আমদানি, বিক্রয় ও সেবা প্রদান ক্ষেত্রে অনিয়ম চালিয়ে আসছে। তদন্তে দেখা গেছে, কিছু ব্যবসায়ী অনুমোদনহীন পণ্য সরবরাহ, কর ফাঁকি এবং ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের মতো কার্যকলাপে লিপ্ত।
সংস্থার প্রধান কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, এই ধরণের বেআইনি কার্যক্রম মোবাইল বাজারের স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ক্ষতি করে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এমআইওবি সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণ করে আইনগত পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
অধিক তদন্তের জন্য এমআইওবি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে চলেছে। বর্তমানে পুলিশ ও রেভিনিউ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও বিশদ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা শীঘ্রই আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতে চাওয়া সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য সংস্থা এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে। তিনি বলছেন, ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমআইওবি উল্লেখ করেছে, বেআইনি কার্যক্রমে জড়িত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তি আরোপের জন্য প্রাসঙ্গিক আইন অনুসারে মামলা দায়ের করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি জব্দ, লাইসেন্স বাতিল এবং জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পদক্ষেপের ফলে মোবাইল বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে সংস্থা আশাবাদী। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, আইন মেনে চলা ব্যবসায়ী ও গ্রাহক উভয়েরই স্বার্থ রক্ষা পাবে।
মোবাইল ডিভাইসের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে অনিয়মের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই সংস্থা নিয়মিতভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ ও অডিট চালিয়ে যাবে।
এমআইওবির এই ঘোষণার পর, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বাজারের অন্যান্য অংশীদাররা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেছে।
অধিক তথ্যের জন্য সংস্থা আগামী সপ্তাহে একটি প্রেস কনফারেন্সের আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে তদন্তের ফলাফল ও পরবর্তী পদক্ষেপের বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এই ঘটনাটি দেশের মোবাইল শিল্পের নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়া অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন।
মোবাইল ব্যবসা সংস্থার এই পদক্ষেপের ফলে ভোক্তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাজারের স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



