27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী গ্রিনল্যান্ড আক্রমণকে ন্যাটো সমাপ্তির হুমকি হিসেবে সতর্ক

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী গ্রিনল্যান্ড আক্রমণকে ন্যাটো সমাপ্তির হুমকি হিসেবে সতর্ক

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সোমবার জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা ন্যাটো জোটের সমাপ্তি ঘটাতে পারে। এই সতর্কতা আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা গুরুত্বের ওপর জোর এবং ২০ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করার ঘোষণার পর। ট্রাম্পের মন্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপট যুক্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ চালিয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে, যা লাতিন আমেরিকায় উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। এই ঘটনাকে অনুসরণ করে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা আগামী ২০ দিনের মধ্যে শুরু হবে এবং তিনি সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পের কথাও ইঙ্গিত করেছেন।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতিতে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো ন্যাটো সদস্যের ওপর সামরিক আক্রমণ চালায়, তবে তা ন্যাটো জোটের পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে গড়ে ওঠা নিরাপত্তা কাঠামোর সমাপ্তি ঘটাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এমন কোনো পদক্ষেপ ন্যাটোকে অপ্রতিহত করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ভিত্তি নষ্ট করবে।

গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যা স্বাধীন দেশ নয়। যদিও স্থানীয় সরকার অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো পরিচালনা করে, তবে পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি সম্পূর্ণভাবে ডেনমার্কের তত্ত্বাবধানে থাকে। এই স্বয়ংসম্পূর্ণতা সত্ত্বেও গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদ তাকে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নজরে এনে দেয়।

গ্রিনল্যান্ড আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে বিশাল ভূমি, যেখানে তেল, গ্যাস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ। এই সম্পদগুলোই যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আগ্রহের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ডেনমার্কের সরকার এই সম্পদগুলোকে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে রক্ষা করতে চায়।

ট্রাম্পের প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দৃঢ় করতে লুজিয়ানা রাজ্যের প্রাক্তন গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ করেছে। এই পদক্ষেপটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেনমার্কের সতর্কতা ইউএস‑ডেনমার্ক সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়িয়ে তুলেছে এবং ন্যাটোর অভ্যন্তরে ঐক্যের প্রশ্ন তুলেছে। ন্যাটোর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে জোটের সংহতি বজায় রাখতে সকল সদস্যের সমন্বিত অবস্থান প্রয়োজন।

ইউরোপীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের ওপর সামরিক ইচ্ছা ন্যাটোর সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা নীতিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো একক পদক্ষেপে গ্রিনল্যান্ডে হস্তক্ষেপ করে, তবে তা ন্যাটোর অভ্যন্তরে অবিশ্বাসের বীজ বপন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে জোটের কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, ট্রাম্পের ২০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে থাকবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ ন্যাটো জোটের অস্তিত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ, এবং এই বিষয়টি সমাধানের জন্য কূটনৈতিক পথই একমাত্র কার্যকর বিকল্প।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments