কানাডার প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড সোমবার টুইটারে জানিয়েছেন যে তিনি পার্লামেন্টের আসন ছেড়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির অর্থনৈতিক উন্নয়ন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন। এই পদটি বেতনবিহীন হবে এবং তিনি জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের রোডস ট্রাস্টের সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ফ্রিল্যান্ড ২০১৩ সালে টরন্টোর ইউনিভার্সিটি‑রোজডেল নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং জাস্টিন ট্রুডোর শাসনামলে অর্থনীতি, পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের শেষের দিকে তিনি ট্রুডোর নীতি সমালোচনা করে একটি পদত্যাগ পত্র প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকিকে যথাযথভাবে মোকাবেলা না করার জন্য ট্রুডোর নেতৃত্বকে দোষারোপ করেন।
ফ্রিল্যান্ডের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে তিনি কানাডার ইউক্রেন পুনর্গঠন বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে তার দায়িত্বও ত্যাগ করবেন। একই সময়ে তিনি পার্লামেন্টের নিরাপদ লিবারেল আসন থেকে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং তার নির্বাচকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন যে তিনি তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত ছিলেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি একই দিনে টুইটারে ফ্রিল্যান্ডকে তার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেন যে তার বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের অভিজ্ঞতা ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই ঘোষণার পর কানাডার বিরোধী দল থেকে তীব্র সমালোচনা উঠে আসে। কনজারভেটিভ পার্টির বিদেশনীতি সমালোচক মাইকেল চং উল্লেখ করেন যে একজন কানাডার সংসদ সদস্য একই সঙ্গে কোনো বিদেশি সরকারের উপদেষ্টা হতে পারেন না এবং ফ্রিল্যান্ডকে একটি কাজ বেছে নিতে হবে।
ফ্রিল্যান্ডের রোডস ট্রাস্টের সিইও পদটি ইতিমধ্যে জানুয়ারি মাসে ঘোষণা করা হয়েছিল; রোডস ট্রাস্ট ওক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ পরিচালনা করে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট সংস্থা। তিনি জুলাই মাসে এই দায়িত্ব গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন, যা তার আন্তর্জাতিক নীতি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাকে নতুন দিক দেবে।
ফ্রিল্যান্ডের পার্লামেন্ট ত্যাগের ফলে টরন্টোর ইউনিভার্সিটি‑রোজডেল আসন শূন্য হয়ে যাবে এবং লিবারেল পার্টি দ্রুত নতুন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে হবে। তার পদত্যাগের ফলে কানাডার ইউক্রেন পুনর্গঠন প্রকল্পের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে, যা ইতিমধ্যে চলমান পুনর্গঠন কাজের ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে ফ্রিল্যান্ডের এই পদক্ষেপ কানাডার ইউক্রেন সমর্থনে নতুন মাত্রা যোগ করবে, তবে একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্তি নিয়ে বিতর্ক বাড়াবে। ভবিষ্যতে কানাডা-ইউক্রেন সম্পর্কের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকগুলোতে ফ্রিল্যান্ডের অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগবে তা দেখা বাকি।
সারসংক্ষেপে, ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের পার্লামেন্ট ত্যাগ এবং জেলেনস্কির অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্তি কানাডা ও ইউক্রেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন পর্যায় সূচিত করেছে, তবে এটি দেশীয় রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন বিষয়ও তৈরি করেছে।



