ব্রুকলিনের চারজন বন্ধুর সমন্বয়ে গঠিত গিজ ব্যান্ড, ২০২৫ সালে প্রকাশিত ‘Getting Killed’ অ্যালবামের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত জগতে বিশাল মনোযোগ পেয়েছে। এই দলটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সময় গঠিত হয় এবং কলেজে যাওয়ার আগে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি ছিল, তবে ডেমো রেকর্ডের পর রেকর্ড লেবেলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
গিজের সদস্যরা হলেন ক্যামেরন উইন্টার (ভোকাল ও কীবোর্ড), এমিলি গ্রিন (গিটার), ম্যাক্স বাসিন (ড্রামস) এবং ডমিনিক ডিগেসু (বেস)। তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং শৈশবের সঙ্গীত অভিজ্ঞতা ব্যান্ডের সৃজনশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উইন্টার কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় ভিডিও কলের মাধ্যমে কাজের তীব্রতা বর্ণনা করে, যা তার জন্য এপ্রিল ২০২০-কে স্মরণীয় করে তুলেছিল।
২০২১ সাল থেকে গিজ তিনটি অ্যালবাম প্রকাশ করেছে, তবে সর্বশেষ ‘Getting Killed’ অ্যালবামটি বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এই রেকর্ডটি লস এঞ্জেলেসে প্রযোজক কেনেথ “কেনি বিটস” ব্লুমের সঙ্গে মাত্র দশ দিনের মধ্যে রেকর্ড করা হয়, যেখানে মূলত স্বতঃস্ফূর্ত জ্যাম সেশনগুলোকে ভিত্তি করা হয়েছে। অ্যালবামের সাউন্ডে ভেলভেট আন্ডারগ্রাউন্ড, ক্যাপ্টেন বিফহার্ট, স্যুইসাইড, দ্য স্ট্রোকস এবং রেডিওহেডের প্রভাব স্পষ্ট হলেও তা সম্পূর্ণ নতুন সৃষ্টির ছাপ দেয়।
গিজের গানের কথা সরাসরি, তীক্ষ্ণ এবং কখনো কখনো বিদ্রূপাত্মক, যা আধুনিক সমাজের সম্পর্ক, রাষ্ট্রের প্রচার এবং সামাজিক বিভাজনকে লক্ষ্য করে। গানের লিরিক্সে উইন্টার প্রায়শই তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ এবং হালকা ব্যঙ্গের মিশ্রণ ব্যবহার করেন, যা শোনার সময় একধরনের বুদ্ধিমত্তা ও অপ্রত্যাশিত হাস্যরসের অনুভূতি দেয়। প্রধান সিঙ্গেল ‘Taxes’ গানে “If you want me to pay my taxes / You’d better come over with a crucifix” লাইনটি সামাজিক নীতি এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যে টানাপোড়েনকে প্রকাশ করে।
‘Taxes’ গানের মিউজিক ভিডিওতে ব্যান্ডকে উন্মত্ত ভক্তদের সমাবেশের সামনে পারফর্ম করতে দেখা যায়, যেখানে উচ্ছ্বাসের মাত্রা উচ্চ শিখরে পৌঁছায়। এই দৃশ্যটি ব্যান্ডের তরুণ ভক্তদের উত্সাহ এবং সঙ্গীতের প্রতি তাদের তীব্র আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে। গিজের সঙ্গীতের শক্তি এবং দৃশ্যমানতা তাদেরকে নতুন প্রজন্মের আইডল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
ব্যান্ডের সঙ্গীতিক দিক থেকে প্রভাবশালী নিউ ইয়র্কের টেলিভিশন এবং টকিং হেডসের শৈলীও স্পষ্ট, তবে গিজ নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখেছে। তাদের সৃজনশীলতা এবং ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা তাদেরকে সমসাময়িক রক দৃশ্যে আলাদা করে তুলেছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোই গিজকে রেডিও ১-এর ‘Sound of 2026’ তালিকায় চতুর্থ স্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।
ব্যান্ডের বেসিস্ট ডমিনিক ডিগেসু সম্প্রতি বর্ণনা করেছেন যে, উচ্চ বিদ্যালয়ের সময় তাদের সঙ্গীতের স্বপ্ন কীভাবে ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নেয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ে তারা স্কুলের পরের সময়ে একসাথে অনুশীলন করতেন এবং ছোট ছোট পারফরম্যান্সে অংশ নিতেন। এই অভিজ্ঞতা তাদেরকে পরস্পরের সুরে সমন্বয় সাধন করতে এবং সৃজনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
গিজের সাফল্য কেবলমাত্র অ্যালবামের বিক্রয় সংখ্যায় নয়, বরং বিশ্বব্যাপী রেডিও স্টেশন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শোনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ রেডিও ১ এবং ৬ মিউজিকের শোনার তালিকায় তাদের গানের উপস্থিতি নতুন শোনারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই সাফল্য ব্যান্ডের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি বাড়িয়ে দিয়েছে।
গিজের সঙ্গীতের বৈশিষ্ট্য হল ধারাবাহিক পরিবর্তনশীল রিদম এবং অপ্রত্যাশিত সুরের সংমিশ্রণ, যা শোনার সময় একধরনের অস্থিরতা ও উত্তেজনা তৈরি করে। তবে গানের লিরিক্সের তীক্ষ্ণতা এবং সামাজিক বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি শোনারকে গভীরভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে। এই দ্বৈত বৈশিষ্ট্যই গিজকে সমসাময়িক রক জগতে আলাদা করে তুলেছে।
ব্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, তারা নতুন সঙ্গীত প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক ট্যুরের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। গিজের সদস্যরা নতুন অ্যালবাম রেকর্ডিং এবং লাইভ পারফরম্যান্সের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের সৃষ্টিশীলতা এবং উদ্যম ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি করে।
সারসংক্ষেপে, গিজের ‘Getting Killed’ অ্যালবামটি তাদের সঙ্গীতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা তাদেরকে নতুন প্রজন্মের রক আইডল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তাদের সৃষ্টিশীলতা, তীক্ষ্ণ লিরিক্স এবং অনন্য সাউন্ডের সমন্বয়ই আজকের তরুণ শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেছে। গিজের এই উত্থান নতুন সঙ্গীতের দিগন্তকে প্রসারিত করে এবং ভবিষ্যতে আরও রোমাঞ্চকর সৃষ্টির প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।



