অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার সচিবালয়ের সরকারি ক্রয় উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানালেন, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় রূপান্তরিত হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল দেয় না।
বৈঠকের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তের শুরুর দিকটি বাংলাদেশ থেকে শুরু হয়নি, তবে ঘটনার পরিণতি দু’দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ হওয়ায় উভয় দেশের ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে।
সালেহউদ্দিনের মতে, সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠকে স্পোর্টস সংক্রান্ত কোনো আলোচনা হয়নি এবং অর্থনৈতিক নীতি বা কেনাকাটার ওপর এই ঘটনার কোনো প্রভাব পড়েনি। তিনি স্পষ্ট করে বললেন, আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা গেলে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
যদিও তিনি পারস্পরিক সম্পর্কের ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন, তবুও তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে বিষয়টি জানার পরামর্শ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়টি অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, তাই তার দৃষ্টিকোণ থেকে তা বিশ্লেষণ করা কঠিন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনের দুই মাস আগে এ ধরনের বিষয় উত্থাপিত হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। তিনি বলেন, মুস্তাফিজুর একজন দক্ষ এবং পরিচিত ক্রিকেটার, যাকে হঠাৎ করে বাদ দেওয়া দুর্ভাগ্যজনক।
বৈঠকে তিনি অতীতের উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, হিটলারের সময় অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যদিও অনেকেই তা ঘৃণা করলেও অংশগ্রহণ করেছিল। তিনি এই তুলনা দিয়ে ইঙ্গিত করেন, ক্রীড়া ও রাজনৈতিক বিষয়ের মধ্যে আবেগের প্রভাব থাকতে পারে, তবে যুক্তিসঙ্গত বিবেচনা করলে সমাধান বের করা সম্ভব।
মুস্তাফিজুরের বাদ দেওয়া সিদ্ধান্তের পেছনে আইপিএল দলগুলোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়া রয়েছে, যা তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফল নয়। তিনি উল্লেখ করেন, দলগুলো তার পারফরম্যান্স ও ফিটনেসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার ফলে বাংলাদেশে ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে হতাশা দেখা দিচ্ছে, তবে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে এখনো কোনো নীতি পরিবর্তনের কথা শোনা যায়নি। সালেহউদ্দিনের মতে, এই বিষয়টি আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে তেমন গুরুত্ব পায় না।
বৈঠকের শেষে তিনি বললেন, ভবিষ্যতে উভয় দেশের ক্রীড়া সংস্থাগুলো যদি পারস্পরিক সমঝোতা বজায় রাখে, তবে এই ধরনের সমস্যার সমাধান সহজ হবে। তিনি দু’দেশের ক্রীড়া ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সমন্বয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন।
সালেহউদ্দিনের মন্তব্যের পর সাংবাদিকরা আবারও জিজ্ঞাসা করেন, আইপিএল বাদ দেওয়ার ফলে বাংলাদেশে ক্রীড়া শিল্পের আর্থিক প্রবাহে কী প্রভাব পড়বে। তিনি উত্তর দেন, বর্তমান আর্থিক নীতি ও বাজেট পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো পরিবর্তন আশা করা যায় না।
বৈঠকের আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, মুস্তাফিজুরের বাদ দেওয়া সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে আইপিএল ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপিত হবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। তবে তিনি আশ্বাস দেন, সরকার এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
সারসংক্ষেপে, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল বাদ দেওয়া রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠলেও, তা দেশের আর্থিক নীতি বা ক্রয় সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না, এবং উভয় দেশের ক্রীড়া ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।



