ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৪৪ বছর বয়সী হিন্দু বিধবা নারীকে গত শনিবার রাত ৩ জানুয়ারি দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় এবং চুল কেটে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। ঘটনাস্থলটি কালীগঞ্জ থানা এলাকার অধীনে পড়ে।
ভিকটিমের স্বামীর মৃত্যুর পর একাই দশ বছর বয়সের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে তিনি কালীগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা। তার বাড়ি ও জমি তিনি মো. শাহীনের ভাইয়ের কাছ থেকে ক্রয় করে বসবাস শুরু করেন।
সন্ধ্যাবেলা দুইজন আত্মীয় তার বাড়িতে আসেন। শাহীনের ভাইয়ের বন্ধুরা বাড়িতে প্রবেশের অজুহাত নিয়ে শাহীনের ভাই এবং ৪৫ বছর বয়সী হাসান আলীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন।
সেই সময় দুই আত্মীয়কে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়, আর অন্য ঘরে শাহীনের ভাই ও হাসান আলী ভিকটিমকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর শাহীনের ভাই তার চুল কেটে শারীরিক নির্যাতন করে।
ভিকটিমকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য ডিএনএ ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।
পুলিশের ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত হাসান আলীকে কালীগঞ্জ থানা থেকে গৃহবন্দি করা হয়েছে এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অন্য সন্দেহভাজনদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
হাসান আলীর গ্রেপ্তার পরেও শাহীনের ভাইসহ অন্যান্য অপরাধীদের ধরা না পড়া পর্যন্ত অনুসন্ধান চালু রয়েছে। পুলিশ দলটি স্থানীয় এলাকায় গসিপ ও গোপন সূত্রের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের সন্ধান করছে।
ভিকটিমের অভিযোগ অনুসারে, শাহীনের ভাই বাড়ি ও জমি কেনার পর থেকে তাকে কুপ্রস্তাব ও অর্থের দাবি করে আসছে। তিনি একাধিকবার ভিকটিমকে অনধিকারিকভাবে টাকা দিতে বলেছিলেন।
শাহীনের ভাইয়ের সঙ্গে ভিকটিমের সম্পত্তি লেনদেনের পর থেকে এই বিরোধ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত এই হিংসাত্মক অপরাধে রূপ নেয়। এই বিষয়টি তদন্তকারীরা সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে যাচাই করছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভিকটিমের বিরুদ্ধে করা অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে মামলাটি কালীগঞ্জ থানা থেকে জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসিকিউশন দল ভিকটিমের শারীরিক পরীক্ষা, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং সাক্ষ্যকে ভিত্তি করে মামলা দায়ের করবে। আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি চাওয়া হবে।
পুলিশের মতে, এই ধরনের যৌন নির্যাতন ও শারীরিক নির্যাতন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে এবং সমাজে এর পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় সমাজে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং ভিকটিমের পরিবারকে মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সামাজিক সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবকরা ভিকটিমের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
অনুসন্ধান চলমান থাকায় পুলিশ অতিরিক্ত তথ্য ও সূত্রের জন্য জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা যায় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।



