18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচিফ প্রসিকিউটর জুলাই আন্দোলনকে অবজ্ঞা করে মন্তব্যকে ধৃষ্টতা বলে সমালোচনা

চিফ প্রসিকিউটর জুলাই আন্দোলনকে অবজ্ঞা করে মন্তব্যকে ধৃষ্টতা বলে সমালোচনা

মঙ্গলবার, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জুলাই আন্দোলনকে অবজ্ঞা করে কোনো মন্তব্য করা ধৃষ্টতা বলে তীব্র সমালোচনা করেন।

প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, জুলাই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারায় গঠিত একটি জাতীয় মুক্তির আন্দোলন ছিল এবং এটিকে উপেক্ষা করা বা প্রশ্ন তোলা দেশের স্বাতন্ত্র্যবোধের প্রতি অবহেলা। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের কোনো আদালতে জুলাই অভ্যুত্থানকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

শুনানিতে সালমান এফ. রহমান ও আনিসুল হকের আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরেন, জুলাই মাসে জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছিল এবং তা বৈধ ছিল। তারা আদালতে এই বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের পদক্ষেপের বৈধতা রক্ষা করতে চেয়েছেন।

প্রসিকিউটর এই যুক্তিকে ‘ধৃষ্টতা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, এমন মন্তব্য জাতীয় ইতিহাসকে ক্ষুন্ন করে। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই চার্টার ও জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে আন্দোলনকে জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

শুনানির পর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ অভিযোগ গঠনের আদেশ ১২ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়। ট্রাইব্যুনালটি বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার ও বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের প্যানেল গঠন করে।

বিচারিক প্যানেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়, অভিযোগের প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে যথাযথ রায় প্রদান করতে। আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সাবেক উপদেষ্টা ও আইনমন্ত্রীকে আন্তর্জাতিক অপরাধের দায়ে দায়িত্বশীল করা হবে কিনা তা নির্ধারিত হবে।

শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত থাকা দুইজনের আইনজীবী উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের কারফিউ জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য জরুরি ব্যবস্থা ছিল এবং তা অবৈধ নয়। তারা আদালতকে এই দিকটি বিবেচনা করে রায় দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রসিকিউটরের মন্তব্যের পর, নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র নজরদারিতে সালমান এফ. রহমান ও আনিসুল হককে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালের হিয়ারিং রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। এই স্থানান্তরটি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে সম্পন্ন হয়।

এই ঘটনার ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনী আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি ট্রাইব্যুনাল জুলাই আন্দোলনের বৈধতা স্বীকার করে, তবে তা সরকারী নীতি ও জাতীয় স্মৃতির পুনর্মূল্যায়নে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে। অন্যদিকে, যদি আন্দোলনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে।

অপরদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছেন। তারা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় দেশের মানবাধিকার রেকর্ডে প্রভাব ফেলতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, জুলাই আন্দোলনকে অবজ্ঞা করে করা মন্তব্যের ফলে আইনি ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় এবং ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments