22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জরুরি বলে ইসি সানাউল্লাহের সতর্কতা

নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জরুরি বলে ইসি সানাউল্লাহের সতর্কতা

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মঙ্গলবার সকালেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নির্বাচন কমিশনের (অব.) ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অবৈধ অস্ত্রের ত্বরিত উদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

সানাউল্লাহ জানান, জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া মোট অস্ত্রের প্রায় পনেরো শতাংশ এবং গুলির ত্রিশ শতাংশ এখনও পুনরুদ্ধার করা যায়নি। তিনি জোর দিয়ে বললেন, এই অবশিষ্ট অস্ত্র ও গুলি নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত উদ্ধার করা আবশ্যক।

তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা শিবির ও সীমান্ত এলাকা সিল করে রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে অস্ত্রের প্রবেশ রোধ করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সীমান্ত পারাপার থেকে অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে চেকপোস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে বলে তিনি জানান। অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপন ও সীমানা নজরদারির তীব্রতা বাড়িয়ে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা করা হবে।

বক্তব্যের সময় তিনি এক এলাকার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অন্য এলাকায় গিয়ে নিরাপদে থাকতে না পারে, এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেন। এই নির্দেশনা অনুসরণে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অভ্যুত্থানের পর থেকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ধারাবাহিকভাবে অস্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত পুনরুদ্ধারকৃত পরিমাণ প্রত্যাশার চেয়ে কম। সানাউল্লাহের মতে, অবশিষ্ট অস্ত্রের পুনরুদ্ধার না হলে নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের পার্থক্য নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে এবং তারা পুনরুদ্ধারকৃত সামগ্রী বিশ্লেষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহ চেইন চিহ্নিত করা হবে।

সানাউল্লাহের মন্তব্যের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল থেকে কিছু প্রশ্ন উঠে আসে। তারা জিজ্ঞাসা করে, সিল করা শিবির ও সীমান্তে কীভাবে মানবিক সহায়তা চালু রাখা হবে এবং সিকিউরিটি চেকপোস্টের অতিরিক্ত চাপ কীভাবে সামাল দেওয়া হবে।

প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ জানান, মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা দুটোই সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় গৃহীত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবিক সেবা বজায় রাখা একসাথে সম্ভব।

অবৈধ অস্ত্রের পুনরুদ্ধার ও সীমান্ত সিল করার পরিকল্পনা নিয়ে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা শিবিরে সিল করা মানবিক অধিকার সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। তবে সানাউল্লাহের মতে, নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য।

নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তদারকি বাড়বে এবং নির্বাচনের পূর্বে অবৈধ অস্ত্রের পরিমাণ কমাতে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে। এই টাস্ক ফোর্সের দায়িত্ব হবে লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধান, পুনরুদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেফতার করা।

শেষে সানাউল্লাহ উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনা নিশ্চিত করতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত কাজ প্রয়োজন। তিনি সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীকে সতর্কতা বজায় রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্রের পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানান।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments