28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবগুড়ার তীব্র শীতের ফলে গরম পোশাকের বিক্রি বৃদ্ধি, ভোক্তাদের ভিড়

বগুড়ার তীব্র শীতের ফলে গরম পোশাকের বিক্রি বৃদ্ধি, ভোক্তাদের ভিড়

বগুড়া জেলায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে, ফুটপাত, বাজার ও শপিং মলে গরম পোশাকের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাপমাত্রা রেকর্ডের পরিপ্রেক্ষিতে, কম দামের সুইটশার্ট, জ্যাকেট, মাফলার ও হুডি কিনতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত গোষ্ঠীর ভিড় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলমান।

বগুড়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, যা মৌসুমের সর্বনিম্ন হিসেবে চিহ্নিত। পরের দিন, ৬ জানুয়ারি, তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থিত হয়। এই রেকর্ড তাপমাত্রা শহরের জনজীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

শীতের তীব্রতা, ঘন কুয়াশা ও আর্দ্র বাতাসের সমন্বয়ে, সূর্যালোকের উপস্থিতি সীমিত হয়েছে। ফলে, গৃহস্থালির ভিতরেও শীতের অনুভূতি তীব্র, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার ও ছিন্নমূল গোষ্ঠীর জন্য দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করেছে।

বাজারে গরম পোশাকের বিক্রির পরিমাণ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়ে, বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েরই কার্যক্রমে তীব্রতা দেখা দিয়েছে। নিউমার্কেট, আলতাফ আলী মার্কেট, রানার প্লাজা, জলেশ্বরীতলা এলাকার শোরুম এবং রেলওয়ে হকার্স মার্কেটসহ শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

ফুটপাতের দোকানগুলোও শীতের পোশাকের বিক্রির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখানে বিভিন্ন সাইজ ও মানের জ্যাকেট, সোয়েটার, ব্লেজার, হুডি, মোটা টি-শার্ট, মাফলার, কানটুপি ইত্যাদি সাজানো রয়েছে। বিক্রেতারা পণ্যের বৈচিত্র্য বজায় রেখে, দ্রুত বিক্রির জন্য স্টক ঘন ঘন পুনরায় পূরণ করছেন।

বিক্রয়িত পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জ্যাকেট ও সোয়েটারের দাম ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে, আর শিশুর শীতের পোশাক ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এই মূল্য সীমা ক্রেতাদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করেছে।

বহু পরিবার একসঙ্গে একাধিক শীতের পোশাক কিনে, পরিবারের সকল সদস্যের জন্য পর্যাপ্ত গরম কাপড় নিশ্চিত করছে। বিশেষ করে, শীতের তীব্রতা দীর্ঘস্থায়ী হলে, গৃহস্থালির ব্যয়বহুল গরম পোশাকের চাহিদা আরও বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বাজারের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা জানান, হঠাৎ শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক দিনে গরম পোশাকের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে উঁচুতে উঠে এসেছে। বিক্রেতারা স্টক ঘাটতি এড়াতে সরবরাহকারী সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখছেন এবং নতুন পণ্য দ্রুত আনা হচ্ছে।

বিক্রির উত্থান স্থানীয় রিটেইল ব্যবসার আয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গরম পোশাকের উচ্চ চাহিদা বিক্রেতাদের দৈনিক বিক্রয় পরিমাণকে কয়েক গুণ বৃদ্ধি করেছে, ফলে নগদ প্রবাহ ও মুনাফা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে, দাম কম রাখার জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র, যা ভোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক।

সরবরাহ শৃঙ্খলে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে; শীতের পোশাকের মূল উপাদান যেমন উল ও পলিয়েস্টার সাময়িকভাবে ঘাটতি হতে পারে। যদি শীতের তাপমাত্রা আরও কমে, তবে বিক্রেতাদের স্টক পুনরায় পূরণে অতিরিক্ত ব্যয় ও লজিস্টিক জটিলতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, শীতের তীব্রতা কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হলে, গরম পোশাকের চাহিদা স্থিতিশীল থাকবে এবং বিক্রয় বৃদ্ধি ধারাবাহিক হতে পারে। তবে, তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসলে, চাহিদা হ্রাস পাবে, ফলে বিক্রেতাদের স্টক ব্যবস্থাপনা ও মূল্য নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

সারসংক্ষেপে, বগুড়ার বর্তমান শীতের পরিস্থিতি গরম পোশাকের বাজারকে উজ্জীবিত করেছে, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও বিক্রেতাদের আয়ের উভয় দিকেই প্রভাব ফেলেছে। ভবিষ্যতে শীতের তীব্রতা ও বাজারের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে, ব্যবসায়িক কৌশল সমন্বয় করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments