22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনরসিংদিতে চাষিন্দুর বাজারে মুদি দোকানদার হ্যাকিং হত্যাকাণ্ড

নরসিংদিতে চাষিন্দুর বাজারে মুদি দোকানদার হ্যাকিং হত্যাকাণ্ড

নরসিংদি জেলার পালাশ উপজেলা চাষিন্দুর বাজারে গৃহস্থালির সামগ্রী বিক্রি করা ৪০ বছর বয়সী মুদি দোকানদার এক রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হ্যাকিং করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি গত রাত ১১ টার পরে ঘটেছে, যখন শিকার তার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ছিলেন। স্থানীয় পুলিশ অফিসার ইনচার্জ শাহেদ আল মামুন ঘটনাস্থল থেকে তথ্য জানিয়ে জানান।

শিকারের নাম মনি চক্রবর্তী, তিনি শিবপুর উপজেলার সাদচার ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং বহু বছর ধরে চাষিন্দুর বাজারে তার দোকান চালিয়ে আসছেন। মনি স্থানীয় গ্রাহকদের জন্য পরিচিত এবং তার ব্যবসা এলাকায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী। তার পরিবার এবং প্রতিবেশীরা শোক প্রকাশের পাশাপাশি নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সন্ধ্যা ১১ টার কাছাকাছি মনি দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পথে অচেনা কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ তার দিকে এগিয়ে এসে ধারালো ছুরি বা কাঁচি ব্যবহার করে আক্রমণ করে। আক্রমণকারী গুলির সঠিক সংখ্যা এবং পরিচয় এখনও অজানা, তবে শিকারকে তীব্র আঘাত হানো দেখা যায়। আক্রমণের পর শিকারের গায়ে রক্তপাতের চিহ্ন দেখা যায় এবং তিনি তৎক্ষণাৎ অচেতন হয়ে পড়েন।

আকস্মিক আঘাতের পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পার্শ্ববর্তী লোকজন দ্রুত শিকারের দিকে দৌড়ে গিয়ে তাকে পালাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই ডিউটি ডাক্তারেরা শিকারের জীবনচিহ্ন হারিয়ে ফেলায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রোগীর শিরোপরে ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

পালাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেসিডেনশিয়াল মেডিকেল অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শিকারের মাথার পেছনে গভীর কাটের চিহ্ন রয়েছে, যা ধারালো অস্ত্রের আঘাতের ফলাফল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিকারের শারীরিক অবস্থা হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়ই ইতিমধ্যে মৃত অবস্থায় ছিল।

মৃতদেহটি পরে নরসিংদি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে অটোপ্সি করা হবে। অটোপ্সি ফলাফল অনুযায়ী শিকারের মৃত্যু মূলত ধারালো অস্ত্রের আঘাতের কারণে হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা অটোপ্সি রিপোর্টের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার চেষ্টা করবে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং আক্রমণকারীদের সনাক্ত করার জন্য স্থানীয় সাক্ষী ও ক্যামেরা রেকর্ডিং সংগ্রহ করছে। শাহেদ আল মামুন জানান, বর্তমানে কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়নি, তবে তদন্ত চলমান।

শিকারের পরিবার এখনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি, তবে তারা পুলিশকে জানিয়েছে যে শীঘ্রই লিখিত ফার্মে অভিযোগ দাখিল করবে। পরিবারের এই পদক্ষেপ তদন্তকে আইনি দিক থেকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দোকানদারদের সমাবেশে উপস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এবং প্রতিবেশীরা শিকারের মৃত্যুর প্রতিবাদে রাস্তায় জড়ো হন। তারা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবাদ রেলি চালায়।

পুলিশের মতে, আক্রমণটি স্বতঃস্ফূর্ত হিংসা নয়, বরং পরিকল্পিত হতে পারে; তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় মোবাইল ফোন রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ এবং শিকারের ব্যবসায়িক লেনদেনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে হ্যাকিং করে হত্যা করা বাংলাদেশে ‘হত্যা’ ধারা ৩১(১) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

পুলিশ অফিসার ইনচার্জ শাহেদ আল মামুন সম্প্রতি মিডিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানান, “আমরা ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করার চেষ্টা করছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবার এবং স্থানীয় জনগণকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

এই হত্যাকাণ্ড নরসিংদি অঞ্চলে হিংসা ও অপরাধের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে, এবং স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় ভবিষ্যতে নতুন তথ্য প্রকাশিত হতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments