18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাথাইল্যান্ডের রপ্তানি ২০২৬ সালে হ্রাসের ঝুঁকি, মার্কিন শুল্কের প্রভাব স্পষ্ট

থাইল্যান্ডের রপ্তানি ২০২৬ সালে হ্রাসের ঝুঁকি, মার্কিন শুল্কের প্রভাব স্পষ্ট

থাইল্যান্ডের বাণিজ্য নীতি ও কৌশল অফিস (TPSO) ২০২৬ সালে দেশের রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা হ্রাসের দিকে ইঙ্গিত করেছে। সংস্থার পূর্বাভাসে রপ্তানি বৃদ্ধির হার -৩.১ শতাংশ থেকে +১.১ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এই হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি এবং চীনের প্রতি রপ্তানির গতি কমে যাওয়া উল্লেখ করা হয়েছে।

TPSO-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছর রপ্তানির পূর্বাভাসে দেখা যেত যে শুল্কের প্রভাব সীমিত থাকবে, তবে ২০২৬ সালে পুরো বছর জুড়ে শুল্কের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ফলে রপ্তানি পরিমাণে ইতিবাচক গতি হারাতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে হ্রাসও হতে পারে।

থাইল্যান্ডের মোট দেশীয় উৎপাদন (GDP) বৃদ্ধির হারও একই সময়ে সীমিত থাকবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুসারে ২০২৬ সালে জিডিপি বৃদ্ধি ১.৬ থেকে ১.৭ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে অনুমান করা হয়েছে। এই সংখ্যা দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মাত্রা নির্দেশ করে।

বৃহত্তর ঝুঁকির মধ্যে উচ্চ গৃহস্থালী ঋণভারের প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে, যা ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করে। পাশাপাশি শ্রমবাজারের পুনরুদ্ধার ধীরগতিতে ঘটছে, যা উৎপাদন খাতে চাপ বাড়ায়। গ্লোবাল অর্থনীতির ধীরগতি এবং যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপের মূল বাজারের বৃদ্ধির হ্রাসও রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ভৌগোলিক অস্থিরতা ও জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। এই ধরনের অনিশ্চয়তা থাইল্যান্ডের উৎপাদন খাতের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলকতা কমিয়ে দিতে পারে।

তবে কিছু সহায়ক উপাদানও রপ্তানিকে সমর্থন করতে পারে। প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে সুদ হার কমে যাওয়া এবং মুদ্রা নীতি শিথিল হওয়া থাইল্যান্ডের পণ্যগুলোর চাহিদা বাড়াতে পারে। তাছাড়া, বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়াও রপ্তানির জন্য ইতিবাচক দিক।

প্রযুক্তি ক্ষেত্রের উন্নয়নও রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) শিল্পের বৃদ্ধির ফলে ইলেকট্রনিক্সের চাহিদা বাড়ছে, যেখানে থাইল্যান্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র। এই সেক্টরে রপ্তানি বৃদ্ধি পেতে পারে।

সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যকরণও থাইল্যান্ডের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। শুল্ক বাধা এড়াতে উৎপাদনকে থাইল্যান্ডে স্থানান্তর করা হচ্ছে, বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত সোলার সেল ও প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (PCB) এর মতো পণ্যে। এই প্রবণতা রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করবে।

নতুন বাজারের সম্প্রসারণও রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে। থাইল্যান্ডের পণ্যগুলোকে পূর্বে অপ্রবেশযোগ্য বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সামগ্রিক রপ্তানি কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।

সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি এবং চীনের প্রতি রপ্তানির গতি হ্রাস থাইল্যান্ডের রপ্তানির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, তবে মুদ্রা নীতি শিথিলতা, কৃষি চাহিদা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি সেক্টরের উত্থান এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যকরণ কিছুটা সমর্থন প্রদান করবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৬ সালে থাইল্যান্ডের রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমিত থাকবে, তাই নীতি নির্ধারকদের উচিত ঝুঁকি হ্রাসের জন্য আর্থিক স্থিতিশীলতা, শ্রমবাজারের পুনরুদ্ধার এবং বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো।

ভবিষ্যতে রপ্তানি প্রবণতা নির্ভর করবে শুল্ক নীতির পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং থাইল্যান্ডের উৎপাদন খাতের প্রতিযোগিতামূলকতার ওপর। এই উপাদানগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা হলে রপ্তানি হ্রাসের ঝুঁকি কমে আসবে এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির দিকেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments